বৈরী আবহাওয়ায় চাঁদপুরে ইলিশের আকাল, কেজি বিক্রি ৩ হাজার ২০০ টাকা

মোঃ মনির হোসেন:

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলিশের মোকাম চাঁদপুরে মাছের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কয়েকদিন ধরে নদীতে উত্তাল ঢেউ, ঝোড়ো হাওয়া ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ জেলে মাছ ধরতে যেতে পারেননি। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকায়। ব্যবসায়ীদের আশা, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জেলেরা আবার নদীতে নামতে পারবেন, এতে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে এবং দামও কিছুটা কমে আসবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এবং সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন মাছঘাট ঘুরে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণ সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইলিশের আমদানি অনেক কম। ঘাটে মাছের সরবরাহ সীমিত থাকায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় বাজারেই দাম বেড়েছে। বিশেষ করে বড় আকারের ইলিশের চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে।

হরিণা মাছঘাটের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, ঘাটে ২৪ জন আড়তদার থাকলেও বর্তমানে মাছের আমদানি খুবই কম। সারাদিনে বড় আকারের ইলিশ এসেছে মাত্র প্রায় দুই মণ। এই স্বল্প সরবরাহের কারণে এক কেজি ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে ছোট আকারের ইলিশ, যেখানে ছয় থেকে সাতটি মিলে এক কেজি হয়, সেগুলোর দাম ছিল কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। বাজারে বড় মাছের সংকট থাকায় অনেক ক্রেতাই ছোট আকারের ইলিশ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বলেন, মঙ্গলবার সারাদিনে বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রায় ২০ মণ ইলিশের আমদানি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে এর চেয়েও কম মাছ এসেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা নদীতে নামতে না পারায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূলে এলে জেলেরা আবার নদীতে মাছ ধরতে পারবেন। তখন ইলিশের আমদানি বাড়বে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দামও ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পাইকারি বাজারদর সম্পর্কে তিনি বলেন, এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতিমণ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ছিল প্রতিমণ ৯০ হাজার থেকে ৯৫ হাজার টাকা। আর তিনটি মিলে এক কেজি হয়—এমন আকারের ইলিশ প্রতিমণ বিক্রি হয়েছে ৪২ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকায়।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বারি জমাদার মানিক বলেন, বর্তমানে ইলিশের আমদানি অত্যন্ত কম। সরবরাহ সংকটের কারণেই বাজারে ইলিশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তবে এটি সাময়িক পরিস্থিতি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জেলেরা নদীতে নামবেন, মাছের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়বে এবং বাজারও আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈরী আবহাওয়া জেলেদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। নদীতে মাছ ধরার অনুকূল পরিবেশ না থাকলে ইলিশের সরবরাহ কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারে। ফলে ভোক্তাদের বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *