কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের তিন সদস্য, মামলার বাদীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় ওই আসামি পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে গেলেও পরে অভিযান চালিয়ে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের মসজিদঘাটা এলাকায় রাত ১১টার দিকে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নালিশি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে (২৮) গ্রেপ্তারের জন্য রাতে চরণদ্বীপ ইউনিয়নের মসজিদঘাটা এলাকায় অভিযান চালায় বোয়ালখালী থানা পুলিশের একটি দল। এ সময় পুলিশ তাকে আটক করে হ্যান্ডকাফ পরায়।
পুলিশের দাবি, মহিউদ্দিনকে আটক করার পর তার পরিবারের কয়েকজন নারী সদস্য পুলিশের কাজে বাধা দেন। তারা পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন এবং আঁচড় ও কামড় দিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
এ সুযোগে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় মহিউদ্দিন পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যান। পরে আসামিকে ধরতে বোয়ালখালী থানা পুলিশের সদস্যরা আশপাশের এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেন।
এদিকে হামলা ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। আহতরা হলেন—বোয়ালখালী থানার এসআই আবদুল হালিম (৪৮), এএসআই মাসুম বিল্লাহ (৩৫) এবং কনস্টেবল হাসানুজ্জামান (৩২)। এছাড়া মামলার বাদী আব্দুল মান্নান এবং আসামিপক্ষের আরও একজন আহত হয়েছেন। আহত তিন পুলিশ সদস্যকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের অভিযান চলাকালে একই এলাকার কাছ থেকে হ্যান্ডকাফসহ মহিউদ্দিনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে চরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশ সদস্যসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক গ্রাম পুলিশ সদস্য আসামির আত্মীয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বোয়ালখালী থানায় পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা গুরুতর অপরাধ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত চলছে।