মোঃ আনজার শাহ:
ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই একজন নেতার প্রকৃত পরিচয় এই কথাটিকেই যেন আবারও সত্য করে দেখালেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, এমপি। হাজারো রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা, জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন এবং দাপ্তরিক দায়িত্ব শেষ করেই নিজের রাজনৈতিক কর্মীর অসুস্থতার খবর শুনে সব কর্মব্যস্ততা সরিয়ে রেখে তিনি ছুটে যান হাসপাতালে। তাঁর এই হৃদয়স্পর্শী উপস্থিতি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং বরুড়াসহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে গভীর আবেগ ও ইতিবাচক আলোচনার ঢেউ।
বরুড়া পৌরসভা বিএনপির সংগ্রামী সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট শামছুল হক সর্দার গুরুতর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দেশের জন্য একদিন জীবন বাজি রেখে লড়াই করা এই বীর সন্তানের এই কঠিন সময়ে পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীদের চোখে যখন উদ্বেগের ছায়া, তখনই মানবিকতার পরিচয় দিয়ে ছুটে আসেন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে তিনি অসুস্থ এই নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন শামছুল হক সর্দারের দুই কন্যা ও বড় নাতি, যাদের চোখে ছিল বাবার সুস্থতার প্রতীক্ষা আর মন্ত্রীর উপস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তির আভাস।
হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলে তিনি রোগীর সার্বিক শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেন। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, আধুনিক চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
এ সময় গভীর আবেগে আপ্লুত হয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট শামছুল হক সর্দার আমাদের সবার শ্রদ্ধার মানুষ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে আন্তরিকভাবে দোয়া করি, তিনি যেন তাঁকে দ্রুত পূর্ণ শিফা দান করেন এবং সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। তাঁর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা যেন না হয়, সে বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আমি দেশবাসীর কাছেও তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া কামনা করছি। আল্লাহ তাআলা তাঁর পরিবারকে ধৈর্য, সাহস ও মানসিক শক্তি দান করুন। আমীন।”
মন্ত্রীকে হাসপাতালে এভাবে ছুটে আসতে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন রোগীর পরিবারের সদস্যরা এবং তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তাজিরুল ইসলাম বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে তাঁর মানবিকতায়। ব্যস্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মাঝেও অসুস্থ কর্মীর শয্যাপাশে ছুটে যাওয়া সেই মানবিক নেতৃত্বেরই উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে আজ সবার একটাই প্রার্থনা বীর মুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট শামছুল হক সর্দার যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার ফিরে আসেন স্বজন, দল ও দেশের মানুষের মাঝে, স্বাভাবিক জীবনে। আল্লাহুম্মা আমীন।