ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ১ নম্বর মাধবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. শহিদ মিয়ার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক চোরাচালান, জমি দখল, ভাতা ও সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, শহিদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পদের প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। অসহায় ও দুস্থ নারীদের বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেও একাধিক পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত কাজ করে না দিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে শহিদ মিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চাকরি ও বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত কাজে দালালি ও ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষের জমি দখলেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি ভাতা ও কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কাজ করে দেওয়া হয়নি এবং টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে গ্রাম পুলিশ শহিদ মিয়ার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।