শীতের দূষণ ঠেকাতে দিল্লিতে ৫০ শতাংশ কর্মীর ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

শীতের মৌসুমে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় দিল্লিতে একাধিক আগাম বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কর্মী সশরীরে উপস্থিত থেকে কাজ করতে পারবেন। বাকি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে হবে।

সোমবার কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা ও ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, পরিবেশমন্ত্রী মণিন্দর সিং সিরসাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত এবং বিএস-৬ নির্গমন মানদণ্ড পূরণ করে না—এমন যানবাহনের দিল্লিতে প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকবে। তবে সিএনজি ও বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং জরুরি পরিষেবার যানবাহন এ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া বৈধ ‘পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল সার্টিফিকেট’ (পিইউসিসি) ছাড়া কোনো গাড়িতে জ্বালানি না দেওয়ার নিয়মও কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে এ বিষয়ে অভিযান চালানো হবে। দিল্লির বিভিন্ন জ্বালানি স্টেশনে নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়মটি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দূষণ কমাতে অনুমোদিত পার্কিং এলাকায় পার্কিং ফি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তবে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের মালিকানাধীন ও পরিচালিত পার্কিং এ নিয়মের বাইরে থাকবে।

অফিসের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হবে। দিল্লির মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের অফিস সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং দিল্লি সরকারের অফিস সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্মাণ ও ভাঙার কাজেও কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে। ১ নভেম্বর থেকে ধুলা সৃষ্টি করে এমন ভাঙার কাজ ও বাইরের সাধারণ নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। আর ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে নির্মাণ ও ভাঙার কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, জরুরি ও নির্দিষ্ট সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শিল্পকারখানার ওপর নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে। এ জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে নিয়ম প্রয়োগ জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষ দলও গঠন করা হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কের ধুলা নিয়ন্ত্রণ, শিল্পকারখানার নির্গমন পর্যবেক্ষণ, দূষণপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন এবং নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থাও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

দিল্লি সরকার জানিয়েছে, শীতকালীন দূষণ মোকাবিলার এসব ব্যবস্থা শুধু পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার পর নয়, বরং আগাম ও নিয়মিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এসব বিধিনিষেধ গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের (গ্র্যাপ) পাশাপাশি কার্যকর থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *