‘ব্রেকিং ব্যাড’ অভিনেতা আরজে মিটের মৃত্যু, বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর

বিনোদন প্রতিবেদক:

জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা আরজে মিটে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিনোদনবিষয়ক সাময়িকী ভ্যারাইটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে অভিনেতার মৃত্যুর বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে খবর পৌঁছায়। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মিটের প্রতিনিধি তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তাঁকে একজন প্রিয় অভিনেতা, জনহিতৈষী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ আরজে মিটে অভিনয় করেন ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে। সিরিজটিতে তাঁর চরিত্রটি সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত এক কিশোরের। বাস্তব জীবনেও এ স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন মিটে, যা চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলতে তাঁকে সহায়তা করেছিল।

সিরিজটিতে অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। এ ছাড়া ‘হানা মন্টানা’, ‘ভেগাস’, ‘সুইচড অ্যাট বার্থ’, ‘রোবট চিকেন’ ও ‘নাউ অ্যাপোক্যালিপ্স’-এর মতো টেলিভিশন সিরিজেও অভিনয় করেছেন মিটে। বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি।

শোক জানালেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টন ও অ্যারন পল

মিটের মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ তাঁর বাবার চরিত্রে অভিনয় করা ব্রায়ান ক্র্যানস্টন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া শোকবার্তায় তিনি জানান, মিটের মৃত্যু তাঁকে গভীর শোক ও হতাশার মধ্যে ফেলেছে।

ক্র্যানস্টন স্মৃতিচারণ করে বলেন, মাত্র ১৪ বছর বয়সে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মিটে। শুরুতে অভিনয়ে অনভিজ্ঞ থাকলেও সময়ের সঙ্গে তাঁকে একজন দক্ষ অভিনেতা হয়ে উঠতে দেখেছেন তাঁরা। প্রতিবন্ধী অভিনয়শিল্পীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মিটের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সিরিজটির আরেক অভিনেতা অ্যারন পলও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মিটেকে বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর প্রতি ভালোবাসা জানান। একই সঙ্গে মানসিক সংকটে থাকা মানুষদের উদ্দেশে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তাঁরা ভালোবাসার যোগ্য এবং একা নন।

সংগ্রামময় জীবন ও জনকল্যাণমূলক কাজ

১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনে জন্মগ্রহণ করেন আরজে মিটে। তাঁর পুরো নাম রয় ফ্রাঙ্ক মিটে তৃতীয়। জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হন তিনি। তিন বছর বয়সে তাঁর সেরিব্রাল পালসি শনাক্ত হয়।

ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে কিশোর বয়সেই অভিনয়ের জগতে পা রাখেন মিটে। পরে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ অভিনয়ের সুযোগ তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে।

অভিনয়ের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কল্যাণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন তিনি। এ উদ্দেশ্যে ‘দ্য মিটে ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন মিটে।

অভিনয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই শিল্পীর মৃত্যুতে তাঁর সহকর্মী ও ভক্তদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *