ভালো মানুষ হওয়াই শিক্ষার মূল লক্ষ্য — মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

 

মোহাম্মদ সোহেল, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, “ভালো ছাত্র হওয়া যেমন প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন ভালো মানুষ হওয়া।” একজন শিক্ষার্থী যখন নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধে গড়ে ওঠে, তখন সে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। দেশকে ভালোবাসতে শিখতে হবে, কারণ দেশপ্রেমই মানুষকে সৎ, ন্যায়ের পথে ও দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) নগরীর দামপাড়াস্থ বাগমনিরাম আবদুর রশীদ সিটি কর্পোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বার্ষিক মিলাদ, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, শিক্ষক বিদায় ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

মেয়র বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনেতা, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, শিক্ষক কিংবা মেয়র হবে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই ভবিষ্যতের ডাক্তার, ব্যারিস্টার কিংবা প্রধানমন্ত্রী তৈরি হতে পারে। তাই এখন থেকেই সততা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে।”

বিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরে মেয়র বলেন, “১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের ভবন এখন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেব, যাতে দ্রুত ভবনের অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা যায়।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু তা যেন সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব নষ্ট না করে। আজ যারা পুরস্কার পেয়েছে, যারা পায়নি তারাও একদিন সেই অবস্থানে পৌঁছাবে—এই বিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও মানবিকতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পক্ষ থেকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হচ্ছে। বাইরে যার মূল্য ১৫০০ টাকা, সেই ভ্যাকসিন নগরবাসীকে আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিচ্ছি। যারা এখনো এই টিকা নেয়নি, তারা দ্রুত গ্রহণ করবে—এটাই আমার আহ্বান।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই মিলে একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি গড়তে চাই। এজন্য নাগরিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করা, আবর্জনা যথাস্থানে ফেলা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এগুলো আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।”

অনুষ্ঠানের শেষে মেয়র বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই একদিন সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দেবে। শিক্ষক ও অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম, প্রধান শিক্ষক টিংকু কুমার ভৌমিক, রুমা বড়ুয়া, সাবিনা বেগম, শাহাদাত হোসাইন, বিধু ভূষণ, মানিক চন্দ্র রায় ও সেকান্দর পাশা।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, শিক্ষানুরাগী সদস্য নূর হোসাইন, সুকুমার দেবনাথ, শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন, মির্জা মো. মনসুরুল হক ও মো. বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *