মো. আব্দুল গফুর সিকদার:
ভোলার মনপুরায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় মাদক, মাদক পাচার, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং, চোরাচালান ও অবৈধ মালামাল পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব। সভায় মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নূরনবী, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. গিয়াসউদ্দিন তালুকদার, সমবায় কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. নূরনবী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা, উপজেলা আনসার ও ভিডিপির মহিলা প্রশিক্ষিকা দিলরুবা আক্তারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মনপুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আব্দুর রহমানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনপুরা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ডা. মো. কামাল উদ্দিন, সহসভাপতি মো. আব্দুল খালেক সেলিম মোল্লা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনপুরা উপজেলা আমির মাওলানা আমিনুল এহসান জসিম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা, সদস্যসচিব মো. হাফিজ আব্দুর রহিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. হোসেন হাওলাদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও খান সালমান হাবীব বলেন, মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং, চোরাচালান ও অবৈধ মালামাল পাচারের মতো অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এসব অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মাদকের বিরুদ্ধে ছাড় নয়
মনপুরা থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, মাদক আমাদের সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এ কাজে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে রাতের বেলায় মাদক পাচার হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি দক্ষিণ সাকুচিয়া থেকে মনপুরায় মাদক পাচারের অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ করেন।
মাদক নির্মূলে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জামায়াত আমিরের
সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনপুরা উপজেলা আমির মাওলানা আমিনুল এহসান জসিম। তিনি বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিং—এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ছোট্ট একটি দ্বীপ উপজেলা মনপুরাকে মাদকমুক্ত করতে ইয়াবাসহ সব ধরনের নিষিদ্ধ মাদক নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রশাসন কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা আয়োজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, মনপুরার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হলে অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান
মনপুরা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ডা. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি মাদক ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সহযোগিতার আহ্বান জানান। সভায় বক্তারা বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। স্থানীয়ভাবে অপরাধের তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কিশোর-তরুণদের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ইভটিজিং প্রতিরোধ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধ, চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো এবং উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।