মো. আব্দুল গফুর সিকদার:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করাতে ভোলার মনপুরায় নজরুল শতবর্ষ উপলক্ষে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে মনপুরা উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী প্রতিযোগীরা অংশ নেন। প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকেরাও উপস্থিত ছিলেন। নজরুল শতবর্ষ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, একক অভিনয় ও নৃত্য ছিল। প্রতিযোগীরা এসব বিষয়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব। তিনি প্রতিযোগীদের পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান তাওহীদ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন, জুরান চন্দ্র মজুমদার, মো. সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রতিযোগীদের অভিভাবকেরা।
নজরুলের সৃষ্টিতে সাম্য ও মানবতার বার্তা
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও দেশপ্রেম তাঁর সাহিত্যকর্মের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কবিতা, গান, প্রবন্ধসহ বিভিন্ন সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদার কথা তুলে ধরেছেন। নজরুলের ইসলামী সংগীত ও কবিতাও বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের জগতে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। ‘মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই’সহ তাঁর অসংখ্য ইসলামী গান ও কবিতা মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়। তাঁর সৃষ্টিতে ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি মানবপ্রেম, সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তাও ফুটে উঠেছে।
আয়োজকেরা জানান, নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবতাবাদ, দেশপ্রেম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের জাতীয় কবির সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের মতে, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতের মধ্যে শুধু সাংস্কৃতিক সৌন্দর্য নয়, রয়েছে সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী বার্তা। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এসব মূল্যবোধ জাগ্রত করতে নজরুলের সৃষ্টিকর্ম চর্চা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।