মোশারফ হোসেন জসিম পাঠান:
ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিং দই টঙ্গীরচর গ্রামের রতন ভূঁইয়া ও কাইয়ুম মিয়ার কান্ড। সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদস্য মোঃ নাসিমুল আলম, মৃত আব্দুর রশিদ ফকিরের ছেলে বিজিবি সদস্য মোঃ আজহারুল ইসলাম, মৃত আমির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে কৃষক মোঃ সোহাগ মিয়া এবং মৃত সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে মোঃ সোহেল মিয়া—এই চারজন মিলে ৮ শতাংশ জমি সাফ কাওলা মূলে ক্রয় করে।
পৈত্রিক সম্পত্তির মূল মালিক একই গ্রামের মোঃ কফিল উদ্দিন, আফতাব উদ্দিন, আশরাফ আলী, কামাল উদ্দিন (সর্বপিতা মোঃ ছোয়াদ আলী) ও আফজাল সাং সিং দই। উল্লেখিত জমির উত্তরাধিকারী হিসেবে আশরাফ আলী (বকুল) ভূঁইয়ার ভাতিজা মোঃ তামিন দারী ও ভাতিজি মোছাঃ রুমানা আফরিন-এর কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করে চারজন। উল্লেখিত জমিটি বকুল ভূঁইয়া মৌখিকভাবে কাইয়ুমের কাছে বিক্রি করেছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে জমির দলিল প্রদান হয়নি। পরে কাইয়ুম জমির জন্য ৮ লাখ টাকা প্রদান করেছিল, যা ফেরত দেয়া হয়। এরপর কাইয়ুম ও তার লোকজন আনন্দ উল্লাস করে বাড়ি চলে যান।
এই খবর শুনে, জমির উপর বকুল ভূঁইয়ার ভাতিজা মোঃ রতন বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ আদালতে পিয়নশন মামলা করেন। মামলায় প্রতিপক্ষ হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয় সাফ কাওলা জমির মালিক নাসিমুল আলম, আজহারুল ইসলাম, সোহাগ মিয়া ও সোহেল মিয়ার। মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মোঃ নাসিমুল আলম, বিজিবি সদস্য মোঃ আজহারুল ইসলাম, কৃষক মোঃ সোহাগ মিয়া ও মোঃ সোহেল মিয়া—যারা সাফ কাওলা জমির মালিক—বাড়িতে না থাকার সুযোগে পিয়নশন মামলার বাদী মোঃ রতন মিয়া ও কাইয়ুমের নেতৃত্বে এই চারজনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়। এই ঘটনা নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার গণমাধ্যম কর্মী ও মানবাধিকার কর্মীরা সরজমিনে এসে এলাকাবাসীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা সত্যতা স্বীকার করেন। তারা জানান, জমি দলিল করে দিয়েছে যারা, তাদেরকে পিয়নশন মামলায় আসামি করা হয়নি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং দুই কৃষক পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, আমাদের কাছে জমি বিক্রি করেছে এবং সেই কারণে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করা সম্ভব হয়েছে।
তবে, মামলার বাদী ও কাইয়ুমের নেতৃত্বে মানববন্ধনের কারণে দুই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সেনাবাহিনী ও বিজিবি-এর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। মানববন্ধনে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে আমাদের ও পরিবারবর্গের বিরুদ্ধে হয়রানি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি তীব্র নিন্দা জানাই।
উর্ধ্বতন জেলা কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ বিচারকের সুদৃষ্টি কামনা করছে মামলার আসামি পরিবারবর্গ ও সচেতন মহল। উল্লেখ্য, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।