ময়মনসিংহ ব্যুরো:
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নগরীতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না করলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির একাধিক নেতার নাম মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী একক প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের নাম সামনে এনেছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ রুকুনোজ্জামান রোকন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দক্ষিণ জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক এনামুল হক আকন্দ লিটন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, অ্যাডভোকেট এমএ হান্নান খান এবং শাহ শিব্বির আহাম্মদ বুলু।
বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ রুকুনোজ্জামান রোকনকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও নগরবাসীর মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তিনি নগরীর যানজট নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পুনরুদ্ধার ও ডিজিটাল নাগরিকসেবা জোরদারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, দল তাকে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন। নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, নগরপিতা হওয়ার চেয়ে নগরবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করতে চান। যানজট ও নগরীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জোনভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক ও দূষণমুক্ত নগরী গড়ে তোলা এবং নাগরিকদের জন্য সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী এনামুল হক আকন্দ লিটন। তিনি মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দক্ষিণ জেলা কৃষক দলের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তার অংশগ্রহণ রয়েছে।
এনামুল হক আকন্দ লিটন বলেন, দল তাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেবেন।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলীও মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি বলেন, দল তাকে মনোনয়ন দিলে সবার সহযোগিতায় সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ময়মনসিংহকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন।
অন্যদিকে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এমএ হান্নান খানও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তরুণ নেতাকর্মী ও দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়মনসিংহকে সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন।
বিএনপির স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, একাধিক নেতা মেয়র পদে আগ্রহী হলেও দলীয় সিদ্ধান্তের পর চূড়ান্ত প্রার্থীকে ঘিরেই নেতাকর্মীরা নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারকে প্রার্থী হিসেবে সামনে রাখা হয়েছে।
অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার বলেন, নগরীর প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে যানজট, জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও ফুটপাতের দুরবস্থা, পর্যাপ্ত সড়কবাতির অভাব এবং নাগরিকসেবায় সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা আলাদাভাবে চিহ্নিত করে রাস্তা, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খেলার মাঠ ও বিনোদনসহ বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
নগরীর নাগরিকদের প্রত্যাশা, মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচনের আগে নগরীর সমস্যা সমাধানে কী ধরনের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইটে বর্তমানে মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকনকে প্রশাসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।