ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে দেওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তবে তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোকে তেল উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হলেও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ভেনেজুয়েলার মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দেশটির সরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘একটি বিষয় অবশ্যই স্পষ্ট করতে হবে—প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ভেনেজুয়েলার মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ আছে।’
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে দেশটির ভেতরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ২৫ বছর মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার নির্দিষ্ট তেলক্ষেত্র থেকে তেল উত্তোলন করবে। উত্তোলিত তেলের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় একটি তেল চুক্তির ঘোষণা দেন। তার দাবি, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি। চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্র উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে এই চুক্তির মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসবে বলে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চাপে রয়েছে। দেশটির তেলশিল্পের অবকাঠামোও অনেকটা জরাজীর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে তেল উৎপাদন বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ডেলসি সরকার।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় ধরনের তেল চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ডেলসি রদ্রিগেজ এর আগে ভেনেজুয়েলার তেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখে দেশের অর্থনীতি সচল রাখার বিভিন্ন উদ্যোগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।