আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেশটির ভোটারদের উদ্দেশে খোলাচিঠি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ২৫ পাতার ওই চিঠিতে মার্কিন ভোটারদের বর্তমান নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে অবস্থান নেওয়া এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদের প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত চিঠিতে ইরানের অভিজাত এই বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে। বিশেষ করে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে মার্কিন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে মার্কিন রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে কঠোর ভাষা ব্যবহার করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি রাজনীতিবিদদের বোঝাতে হবে যে বিশ্ব পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই প্রধান দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
আইআরজিসির এই চিঠি এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ খোঁজা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
এদিকে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীর চূড়ান্ত প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দুই দশকের বেশি সময় পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে তেহরান নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছে।
আইআরজিসির চিঠিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথাও বলা হয়েছে। তবে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী। চিঠিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভোটারদের ওপর এই চিঠির বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে, তা স্পষ্ট নয়। কারণ ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিটি অনেক মার্কিন ভোটারের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা সীমিত। তবে চিঠিতে এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে।
এর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত অন্যতম। ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোস জরিপে মাত্র ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের উদ্যোগকে অনুমোদন করেছেন। একই জরিপে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন করেছেন ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা।
অন্যদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব পড়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের অবসান এবং অর্থনৈতিক চাপ কমানোও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।