মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিলবোর্ড উপড়ে ফেললেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, একটি স্টুডিওসহ তিনটি স্থানে দুই দিনে ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে ‘মবতন্ত্র’ কায়েমের অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাঁর বক্তব্যের পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে টাঙানো ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’ নামের একটি বিলবোর্ড উপড়ে ফেলেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। এ সময় এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, একই এলাকায় দুই দিনের মধ্যে তিনটি স্থানে ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অথচ সরকার বলেছিল, বাংলাদেশে মবতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর জানতে পারেন তাঁরা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, ওষুধ ও চিকিৎসার বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে নেওয়া হয়েছে। এমনকি দরিদ্র শিশুদের জন্য রাখা টিকাও লুট করা হয়েছে। দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবার জায়গায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জার।

এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, শুধু এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নয়, একই এলাকায় আরও দুটি জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি স্টুডিওতে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশ সদস্যদের সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখানে একটি এক্সক্যাভেটরও আনা হয়েছিল। কোনো স্থাপনা ভাঙার অনুমতি আছে কি না, তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, ভাঙচুর শুরু হলে পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়। পুলিশের ভূমিকা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, পুলিশ যেন ‘মবতন্ত্র কায়েমের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে’।

তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। যারা ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত এবং যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছে, তাঁদের সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সিসিটিভি ফুটেজে যেসব পুলিশ সদস্যকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে বিএনপির একজন সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর এবং স্থানীয় পুলিশের সদস্যরা সংগঠিতভাবে জড়িত। তিনি ঘটনাটিকে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত লুটপাট’ বলেও উল্লেখ করেন।

তাঁর ভাষ্য, দ্রুত বিচার ও ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাঁরা ধরে নেবেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।

ঘটনাস্থলের পেছনে একটি সমবায় সমিতির বিলবোর্ড রয়েছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁরা শুনেছেন ওই সমবায় সমিতির প্রধান একজন সংসদ সদস্য। তাঁর নেতৃত্বে ঘটনাটি ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা।

ভাঙচুরে ক্ষয়ক্ষতির জন্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, সঠিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভবনটি পুনর্নির্মাণ করে সেখানে আবার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পাশের একটি মার্কেটের গলিতে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। বাবা-মায়েরা কষ্ট করে সন্তানদের সেখানে নিয়ে আসছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরাও গরমের মধ্যে গলিতে বসে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

এ ধরনের অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ ব্রিফিং শেষে এনসিপির নেতা-কর্মীরা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে টাঙানো ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’ নামের বিলবোর্ডটি উপড়ে ফেলেন।

এ সময় তাঁরা ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ এবং ‘মবতন্ত্রের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *