নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার হোমনা থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হেলাল উদ্দিন শিকদারের (৫০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার চার দিন পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা একটার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার হোটকোপা এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সোনারগাঁ থানা-পুলিশ ও নারায়ণগঞ্জের ডুবুরি দল যৌথভাবে মরদেহটি উদ্ধার করে। বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রঞ্জন কুমার মালো এবং হেলালের ছোট ভাই দুলাল মিয়া শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজারের সোনাময়ী এলাকায় ঝোড়ো বাতাসে মেঘনা নদীতে ট্রলারটি ডুবে যায়। ওই দিন দুর্ঘটনাস্থল থেকে হেলালের স্ত্রী শিরিনা আক্তারের (৪৫) ফুফাতো বোন রায়েসা বেগমের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গত শনিবার ভোরে উদ্ধার করা হয় হেলালের বড় ছেলে সজীব হোসেন (২৪), ছোট ছেলে সামিন হোসেন (৫) ও মেয়ে সামিয়া আক্তারের (১৭) মরদেহ। সজীব ও সামিনকে হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে এবং সামিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে তাঁর স্বামীর বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেরপাড়া গ্রামের শাহ পরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হেলালসহ ১৩ জন ট্রলারে রওনা হন। তাঁদের সঙ্গে ছিল দুটি গরু ও একটি খাসি।
বেলা তিনটার দিকে ট্রলারটি সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। নদীতে বড় ঢেউ সৃষ্টি হলে ট্রলারে পানি উঠতে থাকে। একপর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার ঘটনাস্থলে গিয়ে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে প্রায় আধা ঘণ্টা পর রায়েসা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হেলালের স্ত্রী শিরিনা আক্তার ও সাত বছরের মেয়ে লামিয়াসহ ট্রলারে থাকা অন্য আট যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। হেলালের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের সবাইকে উদ্ধার করা হলো।