জেলা প্রতিনিধি:
পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর এবং মহাসড়কে বাস আটকে রাখার ঘটনার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় পাঁচটি আন্তঃজেলা লোকাল রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা থেকে চুয়াডাঙ্গা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাসচালকেরা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এরই মধ্যে ঘটনার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা থেকে দূরপাল্লার বাসও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিকল্প হিসেবে অনেকেই ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে যাতায়াত করছেন। এতে যাত্রীদের সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
শ্রমিকদের ভাষ্য, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া এলাকায় থ্রি-হুইলার ইজিবাইক ও পাখি ভ্যানচালকদের সঙ্গে লোকাল বাস শ্রমিকদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাসশ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বাস শ্রমিকদের অভিযোগ, এর আগে ইজিবাইকচালকেরা ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়কে বাস আটকে রাখেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে বাস আটকে থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে লোকাল বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন শ্রমিকেরা। পরে শ্রমিক ও বাস মালিক ঐক্যপরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ঘটনার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে দূরপাল্লার বাসও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। আমিনুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস বন্ধ থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। জরুরি কাজে বাইরে যেতে হওয়ায় ইজিবাইকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাসের তুলনায় ইজিবাইকে ভাড়া বেশি এবং দীর্ঘপথে সময়ও বেশি লাগে বলে জানান তিনি। শ্রমিকদের কোনো সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাসলিনা নাছরিন নামের এক নারী যাত্রী বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দূরের পথে ইজিবাইকে যেতে খরচ ও সময় দুটোই বেশি লাগে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি আরও বেশি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আরেক যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, বাস বন্ধ থাকায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং মহাসড়কে গাড়ি আটকে রাখার প্রতিবাদেই শ্রমিকেরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। মহাসড়কে ইজিবাইকের এমন স্বেচ্ছাচারিতা মেনে নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে লোকাল বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঘটনার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দূরপাল্লার বাসও বন্ধ থাকবে।