যমুনার প্রবল স্রোতে ভাঙনের মুখে ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক

মোঃ মশিউর রহমান:

যমুনা নদীর প্রবল স্রোতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের একাংশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে যমুনার তীব্র স্রোতের আঘাতে মহাসড়কসংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেন।

বর্তমানে ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর জিওব্যাগ ফেলা হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। যমুনার তীর রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, “গত রাতে এলাকাবাসী নিজেরাই ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এটি সাময়িক ব্যবস্থা। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না।”

আরেক বাসিন্দা হালিম তালুকদার বলেন, তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটি ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। ভাঙন অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

স্থানীয় দোকানদার নুরই আলম জানান, গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকার নলিন বাজারের উত্তরে স্লুইসগেটসংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে যমুনার তীব্র স্রোতের আঘাতে ভাঙন শুরু হয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, খবর পেয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্থায়ী সংস্কার করা হলে সড়কটি নিরাপদ থাকবে।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল মোর্শেদ বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টুও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সড়কটি বন্ধ থাকলেও বিকল্প পথে যান চলাচল করছে এবং মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *