ব্যুরো চীফ মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তায় ২২ জন ট্রাফিক ভলান্টিয়ারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এনসিসিআই)-এর উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে নগরীর চাষাঢ়া মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব। স্বাগত বক্তব্য দেন বিকেএমইএ ও এনসিসিআই-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মোরশেদ সারোয়ার সোহেল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কায়সার আহমেদ আশা এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ুন কবির, এনসিসিআই-এর পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু, সোহেল আক্তার সোহান, সহসভাপতি আবু জাফর, পরিচালক মো. মজিবর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট দীর্ঘদিনের সমস্যা। এর কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং নগরীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ চাষাঢ়া মোড়কে যানজটমুক্ত রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। চাষাঢ়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশার স্ট্যান্ড ও হকার বসার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। সবার সহযোগিতায় প্রথমে চাষাঢ়া থেকে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য যানজটপ্রবণ এলাকাতেও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিনের জঞ্জাল ও অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জ শহরকে পরিকল্পনার মধ্যে আনতে সময় ও ধৈর্য প্রয়োজন। যানজট নিরসনে শুধু আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় ট্রাফিক ভলান্টিয়ারদের মধ্যে জ্যাকেট ও বডি ক্যামেরা বিতরণ করা হয়। তারা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সহযোগী হিসেবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ট্রাফিক পুলিশ, ব্যবসায়ী সংগঠন, প্রশাসন ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।