রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই কেরানীগঞ্জে নির্মাণাধীন ১২ তলা ভবন

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নের মাধ্যের চর, বালুর চর ও আরশিনগর গ্যাস রোড এলাকায় রাজউকের অনুমোদিত নকশা (প্ল্যান) ছাড়াই একটি ১২ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন না নিয়েই ভবনটির নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটির নির্মাণকাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রতিদিনই শ্রমিকরা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, ভবনটি নির্মাণের জন্য রাজউকের অনুমোদিত নকশা বা বৈধ অনুমতির কোনো তথ্য তারা জানতে পারেননি। ফলে ভবনটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণাধীন ভবনটির মালিক নজরুল, জসিম গং। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনুমোদন ছাড়া বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে তারা ভবন নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করছেন। এ ধরনের নির্মাণ ভবিষ্যতে জননিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয়দের মতে, বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের অনুমোদিত নকশা, প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধান, মাটি পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ভবনটির নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এতে ভবনের নিরাপত্তা, নির্মাণমান এবং আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি থাকলে অনুমোদনহীনভাবে এভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ এতদূর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেত না। তাদের দাবি, কেরানীগঞ্জ এলাকায় অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণের প্রবণতা বাড়লেও কার্যকর নজরদারির অভাবে এমন অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজউক জোন-৫-এর অথরাইজড অফিসার বলেন, “আমি বিষয়টি জানতাম না। এখন আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রাজউকের এই বক্তব্যের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ভবনটির অনুমোদন, নকশা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্মাণকাজ বন্ধসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সচেতন মহলের দাবি, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ রোধে রাজউককে আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জননিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

তবে এ বিষয়ে ভবনের মালিক নজরুল, জসিম গংয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *