রাজবাড়ী হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করতে এক মাসের সময় দিলেন প্রতিমন্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি:

রাজবাড়ী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্টদের এক মাসের সময় দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় খৈয়ম বলেন, গত সাত মাসেও হাসপাতালের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি করুণ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে মানুষকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দিতে না পারা দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরেও হাসপাতালের পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। এখন হাসপাতালটিকে উন্নত করে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এ কাজে হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে।

হাসপাতালের বর্তমান ব্যবস্থাপনায় তিনি সন্তুষ্ট নন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি হাসপাতালটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দিতে চান। হাসপাতাল আপগ্রেড করার বিষয়ে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও জানান। এ জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসক আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে খৈয়ম বলেন, বড় হাসপাতালেও রোগীর মৃত্যু হতে পারে। তবে রাজবাড়ী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না।

সভায় হাসপাতালের জন্য প্রায় ৬ কোটি টাকার ফার্নিচার পড়ে থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি দ্রুত এসব ফার্নিচার হাসপাতালে আনার নির্দেশ দিয়ে এর জন্য এক মাস সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

হাসপাতালের ভেতরে মোটরসাইকেল প্রবেশ বন্ধ এবং হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ দেন খৈয়ম। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা আর চলতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতাল নিয়ে এটিই তাঁর শেষ সতর্কবার্তা। এক মাসের মধ্যে হাসপাতালের পরিস্থিতি ঠিক করার নির্দেশ দেন তিনি।

এ সময় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের হাসপাতালের উন্নয়ন ও চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

সভায় জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন আরোগ্য ক্লিনিকে সিজারিয়ান পরবর্তী রোগীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জেলার বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা তদারকির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ক্লিনিকে অব্যবস্থাপনা বা অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

সভায় রাজবাড়ী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নতুন ভবনের ৯ম থেকে ১২তম তলা নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, রাজস্ব খাতে পদ সৃজন, নতুন ভবনের ফার্নিচার, চিকিৎসক ও জনবল সংকট, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং ডায়ালাইসিস সেবার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সৌন্দর্যবর্ধন, কেবিন সংস্কার, আউটসোর্সিং জনবল, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটিতে কো-অপ্ট সদস্য অন্তর্ভুক্তি, ক্যাম্পাসে মর্গ স্থাপন ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা, যানবাহন ও মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ, দালালমুক্তকরণ এবং স্টোর ও ফার্মেসির ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সভায় সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মো. আব্দুল হান্নান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম তৌহিদুল ইসলামসহ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *