স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ডিলার মিরাজুলের বিক্রয় কার্যক্রম ও পণ্যের হিসাব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিক্রিত মালামালের পূর্ণাঙ্গ হিসাব বা ব্যালেন্স দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ডিলার—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওএমএসের পণ্য বিক্রি শেষে বিক্রিত পণ্যের পরিমাণ এবং অবিক্রীত মালামালের হিসাব নির্ধারিত রেজিস্টার ও মজুদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কথা। একই সঙ্গে বিক্রয় কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা তদারককারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিক্রির পরিমাণ, অবশিষ্ট পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব যাচাই করার নিয়ম রয়েছে।
তবে রায়েরবাগের ওই বিক্রয়কেন্দ্রে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিক্রিত পণ্য ও অবশিষ্ট মালামালের হিসাব নিয়ে অস্পষ্টতা দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এতে নির্ধারিত বরাদ্দের কতটুকু পণ্য বিক্রি হয়েছে এবং কতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিক্রয় কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা আরিফকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তদারকির দায়িত্বে থাকা ওই ব্যক্তি একটি গাড়ি থেকে ২ হাজার টাকা নিয়ে চলে গেছেন।
ঘটনাস্থলে থাকা ডিলারের এক প্রতিনিধি অবশ্য অবশিষ্ট পণ্যের বিষয়ে বলেন, “তিন ভাগের এক ভাগ বাকি রয়েছে। আমি এখন চলে যাচ্ছি, পরে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব।” তবে তিনি অবশিষ্ট পণ্যের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, বিক্রিত পণ্যের হিসাব কিংবা রেজিস্টারের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওএমএসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচিতে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে চাল, আটা ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য সরবরাহ করে থাকে। ফলে বরাদ্দকৃত পণ্যের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ এবং যথাযথভাবে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রায়েরবাগের ওই বিক্রয়কেন্দ্রে বরাদ্দের পরিমাণ, দিনের শুরুতে মজুদের পরিমাণ, মোট বিক্রি, বিক্রয়মূল্য এবং দিনের শেষে অবশিষ্ট পণ্যের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিক্রয় রেজিস্টার ও বাস্তব মজুদের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।
বিশেষ করে তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির অনুপস্থিতি এবং বিক্রিত পণ্যের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে না পারার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি থাকলে ওএমএসের পণ্য বিক্রিতে অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি সুবিধা যথাযথভাবে পাবেন।
এ বিষয়ে ডিলার মিরাজুল ও তদারককারী আরিফের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।
রায়েরবাগের ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রে পণ্যের হিসাব ও তদারকি নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা।