আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ায় আরও প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ৮ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা রয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, নতুন তথ্য অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার আরও সেনাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে রাশিয়ায় পাঠানোর জন্য বাছাই করা হচ্ছে। তবে এ দাবির বিষয়ে রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে আগস্টে জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াই করতে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার পর্যন্ত উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানো হতে পারে। একই সময়ে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চেয়েছিলেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়া গত জুলাইয়ে ইউক্রেনের জন্য ১০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে। তবে ওই সহায়তায় প্রাণঘাতী অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
জেলেনস্কির সর্বশেষ বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন উত্তর কোরিয়ার দুই বন্দি সেনাকে ইউক্রেন থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তর নিয়ে কিয়েভ ও সিউলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে সিউল এ তথ্য প্রকাশের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এবং বিষয়টি গোপন রাখার সমঝোতা ছিল বলে জানায়। ইউক্রেন এ ধরনের গোপন সমঝোতা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
এ ছাড়া ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ আর্টিলারি ও মর্টার গোলা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার কামান এবং একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে।
তবে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া সামরিক সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে আসছে।