রাশিয়ার কারাগারে ১৬ মাসের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা জানালেন গের্শকোভিচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাশিয়ার কারাগারে ১৬ মাসের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন মার্কিন সাংবাদিক ইভান গের্শকোভিচ। তিনি বলেছেন, ২০২৩ সালে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) তাকে গ্রেপ্তার করার মুহূর্তেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলা হয়েছে।

বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গের্শকোভিচ জানান, ইয়েকাতেরিনবার্গের একটি রেস্তোরাঁয় মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে গ্রেপ্তার করেন। ঘটনাটি দেখে তখনই তার মনে হয়েছিল, এটি আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল।

গের্শকোভিচ বলেন, তাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা নির্যাতন না করায় একসময় তার মনে হয়, তাকে প্রকৃত গুপ্তচর হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতে বন্দি বিনিময়ের জন্য ‘জিম্মি’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধারণাই কারাগারে থাকার সময় তাকে মানসিকভাবে স্থির থাকতে সহায়তা করে।

গ্রেপ্তারের সময় গের্শকোভিচ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মস্কোভিত্তিক বিদেশি সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তিনি এবং তার নিয়োগকর্তা শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন।

রাশিয়ার মস্কোর লেফোর্তোভো কারাগারে ১৬ মাসের বন্দিজীবনকে অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন ও মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। তবে বন্দি অবস্থায় তার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে ভালো আচরণ করা হয়েছিল বলেও জানান।

আদালতে হাজিরার সময় ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে থাকার বিষয়টিও ইচ্ছাকৃত ছিল বলে জানান গের্শকোভিচ। তার ভাষ্য, এর মাধ্যমে তিনি মানুষকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে তিনি ভেঙে পড়েননি।

পরে গের্শকোভিচকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট বহুল আলোচিত বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে ১৬ মাস পর তিনি মুক্তি পান। ওই বিনিময়ের মাধ্যমে রাশিয়া জার্মানিতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত রুশ গুপ্তঘাতক ভাদিম ক্রাসিকভকে ফিরে পায়।

মুক্তির পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হন গের্শকোভিচ। তিনি ঘুমের সমস্যা, বড় ভিড়ে আতঙ্ক এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার কথা জানান। পরে পিটিএসডি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে থেরাপি নেন। নিজের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লেখাও তাকে পরিস্থিতি সামলাতে সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি।

রাশিয়ার সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে গের্শকোভিচ বলেন, একদিন তিনি আবার দেশটিতে ফিরতে চান। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পর রাশিয়ায় কী ধরনের সরকার আসে, সেটিও দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *