রাশিয়ার সম্ভাব্য হাইব্রিড হামলা নিয়ে ইউরোপে নতুন উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সামরিক প্রস্তুতি এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড হামলা’ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন ও ইউরোপীয় নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে রাশিয়ার সম্ভাব্য সেনা নিয়োগ, সাইবার হামলা, নাশকতা ও ড্রোন হামলার আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। তবে রাশিয়া নতুন করে বড় আকারের সেনা সমাবেশের কোনো পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর প্রকাশ্য গণনিয়োগের পরিবর্তে ধাপে ধাপে সেনা বাড়ানোর একটি ‘স্টেলথ মোবিলাইজেশন’ বা গোপন সেনা সমাবেশ হতে পারে বলে পশ্চিমা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের পর রাশিয়া আরও তিন লাখ সেনা নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ২০২৬ ও ২০২৭ সালে মোট ছয় লাখ সেনা নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও দাবি করেছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো গণনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক সেনাকে দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মতো সামরিক সরঞ্জাম রাশিয়ার হাতে রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ কারণে একসঙ্গে বড় আকারে সেনা নিয়োগের পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক সেনা বাড়ানোসহ ধাপে ধাপে জনবল বৃদ্ধির চেষ্টা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

ইউরোপে হাইব্রিড হামলার আশঙ্কা

ইউক্রেনের বাইরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড হামলা’ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সাইবার হামলা, নাশকতা, ড্রোন হামলা, তথ্যযুদ্ধ ও অন্যান্য গোপন তৎপরতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শুক্রবার বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রুশ ‘হাইব্রিড হুমকি’ বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি স্থাপনা সুরক্ষায় পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ম্যাক্রোঁ বলেন, রাশিয়ার এসব তৎপরতার মধ্যে সাইবার হামলা, তথ্যগত হস্তক্ষেপ এবং ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে শারীরিক হামলার ঘটনাও রয়েছে বলে ফরাসি কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় সমর্থন দুর্বল করাও এসব তৎপরতার একটি উদ্দেশ্য হতে পারে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন। ১৭ সেপ্টেম্বর পোলিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও রকেট ব্যবহার করে ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে পোল্যান্ডও রয়েছে বলে তিনি জানান।

টাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলাকে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হতে পারে, যাতে ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া দুর্বল হয়। তিনি আরও বলেন, আগামী শরৎ ও শীত ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হয়ে উঠতে পারে।

রাশিয়া-যুক্তরাজ্য উত্তেজনাও অব্যাহত

এদিকে ইউক্রেনকে দূরপাল্লার হামলায় সহায়তা করা হলে ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনাগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে মস্কো সতর্ক করেছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ পক্ষ এ ধরনের বক্তব্যকে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভূমিকা থেকে দৃষ্টি সরানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছে।

সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। তবে রাশিয়া ইউরোপে বড় ধরনের নতুন হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে নেই। বর্তমান আশঙ্কাগুলো মূলত পশ্চিমা গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং ইউরোপীয় নেতাদের সতর্কবার্তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *