রূপগঞ্জে সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া হয় যুবকের মরদেহ, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো পিবিআই

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাজীপুরের এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার মরদেহ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সড়কের পাশে ফেলে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার চার দিন পর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয় সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত যুবকের নাম আবু রায়হান রিপন (৩৫)। তিনি গাজীপুর জেলার বাসন এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ১২ জানুয়ারি ভোরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের পলখান এলাকায় নিঝুম পল্লি রিসোর্টের দক্ষিণ পাশে রূপগঞ্জ–কালীগঞ্জ মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল ও প্রাথমিক তদন্তে নিহতের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পুলিশ বিষয়টিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করে। পরবর্তীতে পরিচয় শনাক্ত হলে নিহত আবু রায়হান রিপনের ভাই মো. লাল মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হলে সংস্থাটির একাধিক টিম মাঠে নামে। তারা তথ্যপ্রযুক্তি, মোবাইল কল রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের এক পর্যায়ে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইয়াসিন (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পিবিআই। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পিবিআই জানায়, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আবু রায়হান রিপনকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপগঞ্জ–কালীগঞ্জ মহাসড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ জানুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার দেওয়ানবাগ এলাকা থেকে অভিযুক্ত মো. ইয়াসিনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত ইয়াসিনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেফতারের জন্য পিবিআইয়ের একাধিক টিম কাজ করছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পিবিআই জেলা পুলিশ সুপার।

এদিকে, সড়কের পাশে মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *