Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
লোহাগাড়ায় সাংবাদিকের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

লোহাগাড়ায় সাংবাদিকের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় সাংবাদিক কামরুল ইসলামের মাস্টার হাটের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি ও নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে রাতের বেলা নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে। অনেকেই বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে সংঘবদ্ধ চোরের দল সাংবাদিক কামরুল ইসলামের বাসায় প্রবেশ করে আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে নগদ ৫ লাখ টাকা এবং প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে চোরেরা ঘরের তালা বা সিটকানি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।

চুরির এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাত নামলেই এখন চুরি-ডাকাতির ভয় কাজ করে। বাড়িঘরের নিরাপত্তায় কেউ কেউ অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যরা বাইরে থাকলে ফাঁকা বাড়িকে চোরচক্র টার্গেট করতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

পুলিশের টহল জোরদারের দাবি

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয় থানায় অবহিত করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাতের বেলা পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি লোহাগাড়ার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বিভিন্ন এলাকায় চুরি-ডাকাতির অভিযোগ

অনুসন্ধানে জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলায় সম্প্রতি চুরি-ডাকাতির ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ফাঁকা বাড়িগুলো চোরদের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। দিনের বেলায় পরিবারের সদস্যরা বাইরে থাকলেও রাতের অন্ধকারে বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে অনেককে।

গত দেড় মাসের বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করলে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। এসব ঘটনায় কোথাও নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার, আবার কোথাও মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একই রাতেও একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি শুক্রবার রাতে কলাউজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আদারচর এলাকায় শিক্ষক আলিম সামাদের বসতঘরে চুরি হয়। চোরেরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

একই রাতে সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার পাড়ায় প্রবাসী জসিম উদ্দিনের বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটে। একই রাতে বড়হাতিয়া ইউনিয়নের আমতলী বেপারীপাড়া থেকে মুজিবুর রহমানের একটি সিএনজিচালিত গাড়িও দুর্বৃত্তরা চুরি করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

এর মাত্র কয়েক দিন আগে ২৩ আগস্ট রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমির খান চৌধুরীপাড়ায় কফিল উদ্দিনের বসতঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় চোরেরা। একই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা আনোয়ার হোসেনের একটি মোটরসাইকেলও চুরি হয়। ওই রাতেই আরও দুটি বাড়িতে চুরির চেষ্টা চালানো হয়। তবে বাড়ির লোকজন সজাগ হয়ে উঠলে চোরেরা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

অস্ত্রের মুখে ডাকাতি, লুট ১৮ লাখ টাকা

চুরির পাশাপাশি ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনাও স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ১৭ আগস্ট ভোরে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মল্লিক ছোবহান তজু মুন্সির গ্যারেজ এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বসতঘরে ডাকাতির অভিযোগ ওঠে।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী জমির উদ্দিন ও হেলাল উদ্দিনের পরিবারের দাবি, ডাকাতরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ প্রায় ১৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রেহাই পাচ্ছে না

চোরদের হাত থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রেহাই পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৩ আগস্ট রাতে সদর ইউনিয়নের দরবেশহাট এলাকার শাহী দরবেশিয়া জামে মসজিদের জানালার গ্রিল কেটে আইপিএসের ব্যাটারি ও দানবাক্স ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে যায় চোরেরা।

এর আগে ১৯ জুলাই রাতে চুনতি ইউনিয়নের সুফিনগর মসজিদে-আর-রাহমা থেকে প্রায় ৪০০ গজ বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ছাড়া গত ২০ আগস্ট কলাউজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আদারচর এলাকায় মোহাম্মদ আলী হায়দারের ফাঁকা বসতঘরেও চুরির ঘটনা ঘটে।

গত ১৪ জুলাই রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমির খান চৌধুরীপাড়ায় প্রবাসী জুনু মিয়ার ফাঁকা বাড়িতেও চুরি হয়। পরিবারের দাবি, সেখান থেকে প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় চোরেরা।

ফাঁকা বাড়িই চোরদের টার্গেট

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে গেলেই অনেক সময় চোরেরা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়া, আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া কিংবা কয়েক দিনের জন্য বাড়ি ফাঁকা রাখার সুযোগে চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, এলাকায় অপরিচিত লোকজনের চলাচল নিয়ে অনেক সময় সন্দেহ হলেও যথাযথ নজরদারি না থাকায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, মাদকসেবী, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের একটি অংশ ছোটখাটো অপরাধ থেকে বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন নির্জন সড়ক ও এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক মর্যাদা, ভয় কিংবা মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার আশঙ্কায় অনেক ভুক্তভোগী ঘটনা প্রকাশ্যে আনতে চান না বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ জানিয়েছেন।

চিকিৎসার টাকা হারিয়ে দুশ্চিন্তায় শিক্ষক

সর্বশেষ চুরির ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক আলিম সামাদ। তিনি জানান, চুরির দিন পারিবারিক নানা সমস্যায় তিনি ব্যস্ত ছিলেন। তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় সারাদিন তাকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে তার মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে পাশের এলাকায় বসবাসরত বড় ভাই আবু বক্করের বাড়িতে চলে যান পরিবারের সদস্যরা।

আলিম সামাদ বলেন, পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগেই চোরেরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে। চুরি হওয়া নগদ টাকা তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও জায়গা থেকে ধার-কর্জ করে সংগ্রহ করেছিলেন। সেই টাকা হারিয়ে এখন স্ত্রীর চিকিৎসা কীভাবে চালাবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ

সচেতন মহলের মতে, চুরি-ডাকাতি বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়। এর পেছনে মাদক, অনলাইন জুয়া, বেকারত্ব, অসৎ সঙ্গ এবং পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ বিভিন্ন কারণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে দ্রুত টাকা পাওয়ার আশায় তরুণদের একটি অংশ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। পরে সেই অর্থের ঘাটতি পূরণ করতে কেউ কেউ চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাই শুধু চুরি-ডাকাতির ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তার নয়, অপরাধের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

তাদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নিয়মিত পুলিশি টহল, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করা গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

পুলিশের বক্তব্য

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে। অপরাধপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *