নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ::
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন শনির আখড়ায় জরুরি প্রয়োজনে এক প্রসূতির জন্য রক্তদাতার ব্যবস্থা করে দিতে গিয়ে মারধর, দুটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর, নগদ টাকা কেড়ে নেওয়া এবং হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন আহম্মেদ তুষার (২৬) নামের এক যুবক। এ ঘটনায় পপুলার ডায়াগনস্টি+ক সেন্টারের মালিক শামীমের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও দীর্ঘদিনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগী আহম্মেদ তুষার শনির আখড়ায় সারা এক্সপ্রেস বাস কাউন্টারের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আনুমানিক ২৬ বছর বয়সী এক নারী তাঁর কাউন্টারের সামনে এসে জানান, তাঁর ভাইয়ের স্ত্রীর সন্তান প্রসবের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ‘বি পজিটিভ’ রক্ত প্রয়োজন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তুষার পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দুজন রক্তদাতার ব্যবস্থা করেন। পরে ওই নারীকে সহযোগিতা করতে তিনি শনির আখড়ার আল আমিন টাওয়ারে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। সেখানে একজন রক্তদাতা রক্তদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রক্তের ব্যবস্থা করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে তুষার উল্লেখ করেন, রক্তদান কার্যক্রম চলাকালে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শামীম তাঁকে নিজের অফিসকক্ষে ডেকে নেন। পরিচয় জানার পর শামীম তাঁকে কেন ওই নারীর জন্য রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তুষার।
তুষারের দাবি, তিনি এ ধরনের আচরণের কারণ জানতে চাইলে এবং প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল আসে। এ সময় শামীম জোরপূর্বক তাঁর হাত থেকে দুটি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মেঝেতে আছাড় মেরে ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ভাঙচুর হওয়া ফোন দুটির মধ্যে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি S21 FE এবং অন্যটি সিম্ফনি বাটন ফোন। এতে তাঁর আনুমানিক ৯৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
মারধর, টাকা কেড়ে নেওয়া ও হুমকির অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়, মোবাইল ফোন ভাঙচুরের প্রতিবাদ করায় শামীম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নীলাফোলা জখম হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তুষারের অভিযোগ, পরে তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর মানিব্যাগে থাকা ৮ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে ধাক্কা দিয়ে অফিসকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। তাঁর দাবি, মানবিক বিবেচনায় একজন প্রসূতির জন্য রক্তদাতার ব্যবস্থা করতে গিয়ে তাঁকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।
থানায় অভিযোগ, তবুও ব্যবস্থা না নেওয়ার দাবি
ঘটনার পর আহম্মেদ তুষার যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে অভিযুক্ত শামীমের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, মোবাইল ফোন ভাঙচুর, নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া এবং হুমকির বিষয়গুলো তুলে ধরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান তিনি।
তবে অভিযোগ দেওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তুষার। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে থানায় যোগাযোগ ও প্রতিকার চাওয়ার পরও তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আসাদুজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগকারী এক সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযোগের প্রতিকার চাইতে গিয়ে তাঁকে যথাযথ সহযোগিতার পরিবর্তে অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তবে এসআই আসাদুজ্জামান জুয়েল ঠিক কী ধরনের আচরণ করেছেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়…