শেরপুরের গারো পাহাড়ে তীর্থোৎসব ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরের গারো পাহাড়ের বারোমারী সাধু লিওর খ্রিস্টান ধর্মপল্লীতে আগামী ২৯ ও ৩০ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ‘ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’র ২৯তম তীর্থোৎসব। ‘মানবতার জননী ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’ মূলসুরে আয়োজিত এ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে তীর্থস্থানটি। আয়োজকদের আশা, দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণে উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

শেরপুর সীমান্তের গারো পাহাড়ে আয়োজিত এ তীর্থোৎসব দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ খ্রিস্টান ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর শেরপুর, বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পুণ্যার্থীরা এতে অংশ নেন। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ আলোক শোভাযাত্রা। এ ছাড়া প্রার্থনা, নিশি জাগরণ, জীবন্ত ক্রুশের পথ ও মহাখ্রিস্টযোগসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এবার প্রধান পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের বিশপ পনেল পল কুবি সিএসসি।

১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লী। ১৯৯৮ সাল থেকে স্থানটিকে বার্ষিক তীর্থস্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে গড়ে ওঠা এ ধর্মপল্লী পাহাড়ের বুকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে।

আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও বারোমারী মিশনের ফাদার তরুণ বানোয়ারী জানান, আবহাওয়া ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তীর্থোৎসব সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তিনি বলেন, অন্যান্যবারের মতো এবারও আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। দেশের পরিস্থিতিও ভালো। ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান উদযাপনের প্রত্যাশা তাঁদের। আয়োজনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে; বাকি কাজ এক-দুই দিনের মধ্যে শেষ হবে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তীর্থস্থান পরিদর্শন করে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে তীর্থোৎসব ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুরো ধর্মপল্লী গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হবে এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমেও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।

শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম জানান, উৎসব ঘিরে পোশাকি ও সাদা পোশাকে প্রায় চার শতাধিক পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন এপিবিএন সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া এসআরবি ও বিজিবির নিয়মিত টহল অব্যাহত থাকবে। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যেন উৎসবটি আনন্দমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে শুরু ও শেষ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *