শোবিজে ব্যক্তিত্ব ও মানসিক শক্তির গুরুত্ব নিয়ে দীপা খন্দকার

বিনোদন ডেস্ক:

শোবিজ অঙ্গনে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে কর্মপরিবেশে ব্যক্তিত্ব ও মানসিক শক্তির গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী দীপা খন্দকার। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, সহশিল্পীদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং মেয়েকে মানসিকভাবে শক্ত হওয়ার বিষয়ে দেওয়া পরামর্শের কথা তুলে ধরেন তিনি।

কর্মজীবনে হয়রানির অভিজ্ঞতা হয়েছে কি না—এ প্রসঙ্গে দীপা খন্দকার জানান, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হননি। এর পেছনে নিজের ব্যক্তিত্ব ও মনোভাবের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

অভিনেত্রী বলেন, তিনি জানেন না তার এই বৈশিষ্ট্যকে আশীর্বাদ, রূঢ়তা নাকি মানসিক দৃঢ়তা বলা উচিত। তবে শুটিংয়ের প্রয়োজনে রাত দেড়টা-দুইটা পর্যন্ত কাজ করলেও কখনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। অনেক সময় একটি ইউনিটে একমাত্র নারী সদস্য থাকলেও কেউ তাকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখেননি বলেও জানান তিনি।

কাজের পরিবেশে ব্যক্তিত্ব ও আচরণের ভূমিকা প্রসঙ্গে দীপা বলেন, নারীসহ যেকোনো মানুষের অ্যাটিটিউড গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতির প্রতি একজনের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ অনেক বিষয় নির্ধারণ করে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য ভুক্তভোগীকেই দায়ী করা উচিত।

সহশিল্পী মোশাররফ করিমের একটি মন্তব্যও স্মরণ করেন দীপা খন্দকার। তিনি জানান, একবার মোশাররফ করিম তাকে নিয়ে মজা করে বলেছিলেন, দীপাকে দেখে মনে হয় কেউ তাকে ‘আই লাভ ইউ’ বললে তিনি স্যান্ডেল খুলে মারতে পারেন। এ ধরনের ধারণার কারণেই অনেকে তার সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন বলে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী।

দীপা খন্দকার মনে করেন, নারীদের নিজের অবস্থান সম্পর্কে দৃঢ় থাকা প্রয়োজন। নিজের প্রতি সম্মান ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার মতো মানসিক শক্তি থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কন্যাসন্তানকে বড় করার ক্ষেত্রেও একই ধরনের মানসিক দৃঢ়তার শিক্ষা দিচ্ছেন বলে জানান দীপা। মেয়েকে দেওয়া পরামর্শ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাউকে মারধর বা অশালীন কথা বলা যাবে না এবং এমন কোনো পরিস্থিতিও তৈরি করা উচিত নয়, যাতে অন্য কেউ পাল্টা খারাপ আচরণের সুযোগ পায়।

তবে কেউ আগে আঘাত করলে আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা প্রতিরোধ করার সাহস রাখতে হবে—মেয়েকে এমন শিক্ষাই দেন বলে জানান অভিনেত্রী। তার ভাষায়, অন্যায়ভাবে আঘাতের শিকার হয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার কাছে ফিরে আসার চেয়ে নিজের অধিকার ও আত্মসম্মান রক্ষায় সাহসী হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *