শ্রীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত সামাজিক সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে পৈতৃক জমি জবরদখল ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মারধর, দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ইকবাল হোসেন ওরফে শাহজাহান (৫১) বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংদিঘী গ্রামের বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন ও তাঁর ভাইয়েরা সি.এস ৪৪৪, ৪৪৮ এবং এস.এ ১৩৮৩, ১৩৮৪, ১৩৮৫ ও ১৩৮৬সহ বিভিন্ন দাগের পৈতৃক জমি ও টিনের ঘর দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি স্থানীয় ফারুক আহমেদ, আজিজ, মিথিল, সুজন, কাউসার, কামাল হোসেন, রাসেল, তমিজ উদ্দিন ও দুলালসহ তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওই জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিষয়টির সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয় সামাজিক মাতব্বররা উদ্যোগ নেন। উভয় পক্ষকে নিয়ে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং অভিজ্ঞ আমিন দিয়ে জমি মাপার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, নির্ধারিত তারিখে জমি মাপার আগেই অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে রামদা, লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন এবং জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা চালান।
এ সময় ইকবাল হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাঁদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জমি ছেড়ে না দিলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটানোর ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে। পরে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকি ও আতঙ্কের কারণে তাঁরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। নিজেদের জমি জবরদখল রোধ এবং জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, ইকবাল হোসেনের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।