নিজস্ব প্রতিবেদক:
কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার আমদানির চারটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। রাষ্ট্রীয় ও জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতিতে এসব সার আমদানিতে সরকারের ব্যয় হবে ৯৮২ কোটি ৬১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকা।
আমদানির মধ্যে কানাডা থেকে ৮০ হাজার টন ও রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। সার কেনার অর্থ কৃষি ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।
কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে দুই লটে ৮০ হাজার টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। তৃতীয় ও চতুর্থ লটে প্রতিটিতে ৪০ হাজার টন করে সার থাকবে।
প্রতি লটে ব্যয় হবে ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা। দুই লটে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৩৭৯ কোটি ৩৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি টন এমওপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার।
চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফরমুলা অনুসরণ করে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে এ দুই লটের সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিএডিসির এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ১৬ হাজার টন। এর মধ্যে কানাডা থেকে ৬ লাখ টন আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ) থেকে ৭ম লটে ৩৫ হাজার (+১০ শতাংশ) টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এতে ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার। চুক্তির প্রাইসিং ফরমুলা অনুযায়ী বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে এ লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে রাশিয়া থেকে ৫ লাখ ৯৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এরই মধ্যে দেশটি থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের মা’আদেন থেকে ২০২৬ সালের চতুর্থ লটে ৪০ হাজার (+১০ শতাংশ) টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
এতে ব্যয় হবে ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সারের মোট আমদানি মূল্য ৩ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতি টন ডিএপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৮৫ মার্কিন ডলার।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ডিএপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ ৯১ হাজার টন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ৬ লাখ টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে।
সব মিলিয়ে কানাডা থেকে ৮০ হাজার, রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন—মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার আমদানি করবে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৯৮৩ কোটি টাকা।