নিজস্ব প্রতিবেদক, আশুলিয়া:
ইয়ারপুর ইউনিয়নে ভাতা কার্ডকে কেন্দ্র করে ঘুষ বাণিজ্যের বিস্তৃত অভিযোগসাভারের আশুলিয়া থানাধীন ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত ভাতা কার্ড—বিশেষ করে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি ও তার একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। টাকা ছাড়া কোনো ফাইল প্রসেস হয় না বলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। এতে ইউনিয়নের দরিদ্র, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি ভাতা পাওয়ার কথা বিনামূল্যে হলেও বাস্তবে তা যেন “টাকার খেলা” হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন বৃদ্ধা ভুক্তভোগী বলেন, “সরকারি ভাতার কার্ড তো আমাদের অধিকার। কিন্তু এখানে টাকা না দিলে কোনো কাজই হয় না। কয়েক মাস ধরে ঘুরছি, তবুও কিছু হয়নি।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি এই অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে কয়েকজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সচিব আফজাল হোসেন তাদের সঙ্গে ভিন্ন কৌশলে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে আর্থিক সুবিধা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ হলো তৃণমূল মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার প্রধান মাধ্যম। সেখানে যদি ভাতা কার্ডের মতো মৌলিক সেবার ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য চলে, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।
তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।