Write
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ডলু নদী সংলগ্ন বন্যাকবলিত এলাকায় অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম। সংগঠনের উদ্যোগে বুধবার (১৫ জুলাই) বন্যাদুর্গত শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মুখে সামান্য হলেও স্বস্তির হাসি ফোটাতে এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে ডলু নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, খাদ্যসামগ্রী ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, বিশুদ্ধ পানিসহ বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাদ্য, যা তাৎক্ষণিকভাবে দুর্গত পরিবারগুলোর প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হবে। সংগঠনের সদস্যরা প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এসব খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সিনিয়র প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি এ. কে. এম. রিদওয়ানুল করিম, সহ-সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুনপ তালুকদার, সদস্য রায়হান আলী, মো. হাসান মুরাদ, মো. কামরুজ্জামান, জুয়েল বড়ুয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় নেতৃবৃন্দ বন্যাদুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি মানবিক কর্তব্য। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দুর্যোগের সময় সম্মিলিত উদ্যোগই মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পারে। সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি সবসময় মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশ্বাসী এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসন কার্যক্রমেও অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা।
ত্রাণ পেয়ে বন্যাদুর্গত পরিবারের সদস্যরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, বন্যার কারণে কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম সংকটে দিন কাটছে। এমন সময়ে পাওয়া এই সহায়তা তাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি। তারা আশা করেন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা একইভাবে এগিয়ে এলে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
স্থানীয়রা জানান, মানবিক সংকট মোকাবিলায় এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে। তারা সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রামের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।