সাতকানিয়ায় লিখিত চুক্তি ও সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্য করে বন্ধকী জায়গা হস্তান্তরের চেষ্টার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কিফায়েত উল্লাহ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি ও সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্য করে ন্যায্য প্রাপ্য পরিশোধ না করে এবং জায়গা বুঝিয়ে না দিয়ে অন্যজনের কাছে জায়গা বিক্রির পাঁয়তারা করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আব্দুল মন্নান নামের এক ভুক্তভোগী।

১৪ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার রাস্তার মাথায় অবস্থিত মডেল মসজিদের হলরুমে উপজেলার ১০ নম্বর কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মাদারবাড়ী জনার কেঁওচিয়া এলাকার মৃত লোকমানের ছেলে কিফায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

একই এলাকার আবু তালেবের ছেলে আব্দুল মন্নানের পক্ষে তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাজেশ বড়ুয়া ও অ্যাডভোকেট তানভীর এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মন্নানের আইনজীবী সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও দেশবাসীকে বিষয়টি অবগত করার জন্য বলেন, চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার জনার কেঁওচিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মন্নানের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া মৌজার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশে বাঁশের দোকান সংলগ্ন ‘কিফায়াত টাওয়ার’-এর ২ শতক জমিতে (আরএস দাগ নং-২৫৪৫, বিএস দাগ নং-৫৮২৮) বৈধ স্বত্ব ও স্বার্থ রয়েছে।

উক্ত ভবনের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ রেখে এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আব্দুল মন্নানের পাওনা টাকা পরিশোধ না করেই অভিযুক্ত মো. কিফায়াত উল্লাহ আব্দুল মন্নানের সঙ্গে প্রতারণার উদ্দেশ্যে বেআইনি পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি উক্ত তফসিলভুক্ত জমি ও ভবনে আব্দুল মন্নানের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি, দান বা বন্ধক দেওয়ার চক্রান্ত করছেন এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বন্ধকী ঋণ গ্রহণের পাঁয়তারা করছেন।

সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করতে আব্দুল মন্নান ইতোমধ্যে দেশের স্বনামধন্য দৈনিক পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি জালিয়াতি বা প্রতারণামূলক যেকোনো হস্তান্তর বন্ধে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে রেজিস্ট্রি স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য ক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সতর্ক করা হচ্ছে, যাতে উক্ত সম্পত্তিতে কেউ কোনো ধরনের লেনদেন বা দলিলের মাধ্যমে প্রতারিত না হন।

চুক্তির মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর মো. কিফায়াত উল্লাহ ও স্থায়ী দোকান গ্রহীতা আব্দুল মন্নানের মধ্যে স্বজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ‘কিফায়াত টাওয়ার’-এর সেলামি ভিত্তিতে স্থায়ী দোকান বিক্রয় চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়।

চুক্তিপত্রের মাধ্যমে কিফায়াত উল্লাহ আব্দুল মন্নানের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন বলে দাবি করা হয়। তাঁর মালিকানাধীন কিফায়াত টাওয়ারের নিচতলায় উত্তর পাশে অবস্থিত পশ্চিমমুখী ৭০০ বর্গফুটের দোকানটি আব্দুল মন্নানের কাছে স্থায়ী সেলামি ভাড়ার ভিত্তিতে হস্তান্তর করা হয় বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

৮০ লাখ টাকা বিনিয়োগের দাবি

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্মাণাধীন কিফায়াত টাওয়ারের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ তলা নির্মাণের জন্য কিফায়াত উল্লাহর অর্থের প্রয়োজন হলে আব্দুল মন্নান সেখানে অর্থ বিনিয়োগে সম্মত হন। ওইদিন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তিনি কিফায়াত উল্লাহকে ৮০ লাখ টাকা প্রদান করেন বলে দাবি করা হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আব্দুল মন্নানের মূল বিনিয়োগের ৮০ লাখ টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিনিয়োগের সমপরিমাণ মূল্যের জায়গা ও ফ্ল্যাট আব্দুল মন্নানের নামে সাফ-কবলা রেজিস্ট্রি করে দিতে কিফায়াত উল্লাহ বাধ্য থাকবেন বলেও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সালিশে সমঝোতার দাবি

পরবর্তীতে নালিশি সম্পত্তি নিয়ে আব্দুল মন্নান ও কিফায়াত উল্লাহর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে ২০২১ সালের ২৯ জুলাই উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ও শর্তে উভয় পক্ষ বিরোধের আপস-মীমাংসা করেন বলে দাবি করা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী কিফায়াত টাওয়ারের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত অংশ আব্দুল মন্নানের ভোগদখলে থাকবে এবং কিফায়াত উল্লাহ এতে কোনো আপত্তি তুলতে পারবেন না।

এ চুক্তি বলবৎ থাকা অবস্থায় কিফায়াত উল্লাহ উক্ত সম্পত্তি কারও কাছে বিক্রি, বন্ধক, দান বা হেবা কিংবা ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন না বলেও সমঝোতায় উল্লেখ করা হয়।

ব্যাংকে বন্ধক দেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালে নালিশি সম্পত্তিটি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে বন্ধকী ঋণ গ্রহণের জন্য প্রস্তাব করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আব্দুল মন্নান তা বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

নালিশি সম্পত্তিতে আব্দুল মন্নানের বৈধ স্বত্ব ও স্বার্থ বিদ্যমান থাকায় অন্য কোনো পক্ষ যেন বিভ্রান্ত না হয় বা কোনো আইনি জটিলতার সৃষ্টি না করে, সে উদ্দেশ্যে দেশের দুটি স্বনামধন্য দৈনিক পত্রিকা দৈনিক প্রথম আলো ও দৈনিক আজাদীতে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

ভুক্তভোগীর তিন দাবি

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আব্দুল মন্নানের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়—

১. অভিযুক্ত মো. কিফায়েত উল্লাহ যেন আব্দুল মন্নানের স্বত্ব ও অধিকার ক্ষুণ্ণ করে ‘কিফায়াত টাওয়ার’-এর কোনো অংশ তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি, দান, হেবা বা হস্তান্তর কিংবা কোনো ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করতে না পারেন।

২. সালিশি বৈঠকের সমঝোতা ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আব্দুল মন্নানের মূল বিনিয়োগের টাকা দ্রুত পরিশোধ অথবা তাঁর প্রাপ্য অংশের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে।

৩. কোনো সাধারণ মানুষ বা ক্রেতা যেন বিতর্কিত সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করে প্রতারিত না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের জরুরি আইনি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কিফায়েত উল্লাহর সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *