সাফল্যের অগ্রযাত্রায় এসআই শফিক: উদ্ধারকৃত মোবাইল প্রকৃত মালিকদের হাতে হস্তান্তর

নুরুজ্জামান সাউদ:

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আইসিটি শাখার যৌথ তৎপরতায় উদ্ধার করা বিপুল সংখ্যক হারানো ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব মোবাইল ফোন মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।

জানা যায়, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া কিংবা চুরি হওয়া বেশ কিছু মূল্যবান স্মার্টফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে মোবাইল ফোনগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্ত করা হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এ উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই শফিক এবং তার দক্ষ টিম। তাদের নিরলস প্রচেষ্টা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ধৈর্যের ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হারিয়ে যাওয়া এসব মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের এ উদ্যোগকে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান পিপিএম-বার। তিনি উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে একে একে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেন। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, গোয়েন্দা শাখা ও আইসিটি শাখার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিজের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফিরে পেয়ে অনেক মালিক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, প্রিয় ফোনটি ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু জেলা পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আবারও সেটি হাতে পেয়ে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এ জন্য তারা এসআই শফিক ও তার টিমসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। আধুনিক প্রযুক্তি ও আইসিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে সফল হয়েছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে। এতে প্রযুক্তিগতভাবে ফোন ট্র্যাক করে দ্রুত উদ্ধার করা সহজ হয়।

পুলিশের এমন মানবিক ও জনবান্ধব উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। অনেকেই মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *