নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁরা হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন। এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালতে দাখিল করা আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পল্লবী থানার এফআইআর নম্বর ২১, তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৬-এর আওতায় পেনাল কোড, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের একাধিক ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha # 1’ এবং ‘BBM Transparency’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতামূলক উসকানির ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছিলেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে তাঁরা জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে দাবি করা হয়, ২০১৮ সালে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে আসামিরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন। পরে সংগঠনটির ১০১ সদস্যের কমিটি তৈরি করা হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তে তাঁদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
যে পাঁচ কারণে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো—মামলার অন্য সহযোগী আসামিদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করা; রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা; ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত অন্য ওয়েবসাইট ও পেজের সন্ধান পাওয়া এবং মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানাধীন ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে রিমান্ড আবেদনে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত ও তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে।