সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াপাড়া ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে ২ মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু: থানা ও ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

নুরুজ্জামান সাউদ:

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে দুই মাদ্রাসাছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মনির ও শুভ। গতকাল বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার পর আজ সকালে লেক থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার বিবরণ:
জানা গেছে, গতকাল বিকেলে মনির ও শুভ নয়াপাড়া ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তারা গভীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। প্রাথমিকভাবে কেউ কেউ ধারণা করছিল তারা ব্রিজের টাওয়ার থেকে লাফ দিয়েছে, তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। বরং গোসল করতে নেমেই তারা পানিতে ডুবে যায় বলে স্থানীয়দের ধারণা। গতকাল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্বজনরা লেকের পাড়ে ভিড় করেন এবং উদ্ধারের আকুতি জানান।

প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বজনদের ক্ষোভ:
এই ঘটনায় স্থানীয় থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে চরম অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন নিহতদের পরিবার। স্বজনরা জানান, গতকাল রাতে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে, ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা রাতে কোনো উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে আসেনি। সারারাত স্বজনরা লেকের পাড়ে আর্তনাদ করলেও প্রশাসনের কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ। অবশেষে আজ সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় লেক থেকে মনির ও শুভর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

অরক্ষিত ব্রিজ ও নিরাপত্তা শঙ্কা:
যদিও তারা টাওয়ার থেকে লাফ দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়; তবে স্থানীয়দের মতে, ব্রিজের টাওয়ারগুলো অরক্ষিত থাকায় শিশুরা প্রায়ই সেখানে উঠে ঝুঁকি নেয়। ইতিপূর্বেও এই লেকে কয়েকবার লাশ পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, সিটি কর্পোরেশন যেন এই ব্রিজের টাওয়ারগুলোতে কাঁটাতার পেঁচিয়ে সুরক্ষিত করে দেয়, যাতে কোনো শিশু সেখানে উঠতে না পারে। সিটি কর্পোরেশনের এই অবহেলা এবং প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই এমন প্রাণহানি বারবার ঘটছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

শোকের ছায়া:
দুই মাদ্রাসাছাত্রের অকাল মৃত্যুতে নয়াপাড়া এলাকায় বর্তমানে শোকের মাতম চলছে। সপ্তম শ্রেণির এই দুই মেধাবী ছাত্রের এমন মৃত্যুতে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে ডিএনডি লেক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *