মোঃ আনজার শাহ :
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার সোনাইমুড়ীতে এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল উদ্বোধন করা হবে আগামীকাল ২৩ সেপ্টেম্বর। হাসপাতালটির উদ্বোধন করবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন।
উদ্বোধনকে সামনে রেখে হাসপাতালটির সার্বিক প্রস্তুতি, চিকিৎসাসেবা পরিচালনার সক্ষমতা এবং অবকাঠামোগত পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম, প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ, যন্ত্রপাতি এবং রোগীদের জন্য নির্ধারিত সেবাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সোনাইমুড়ী ও আশপাশের ইউনিয়নের মানুষের জন্য হাসপাতালটি হবে সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এতদিন ছোটখাটো অসুস্থতা ও জরুরি চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের বরুড়া উপজেলা সদর কিংবা কুমিল্লা শহরে যেতে হতো। হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দূরত্ব ও ব্যয়ের চাপ কমার পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা
স্থানীয় সাংবাদিক মো. আনজার শাহ বলেন, “এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতাল চালু হওয়া সোনাইমুড়ী ও আশপাশের মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে এই হাসপাতাল এখন মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার নতুন দ্বার খুলছে।”
তিনি বলেন, “হাসপাতালটি শুধু একটি ভবন বা চিকিৎসাকেন্দ্র নয়; এটি বরুড়ার মানুষের স্বাস্থ্যনিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন। বিশেষ করে দরিদ্র, বয়স্ক, নারী ও শিশুদের জন্য কাছাকাছি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। জরুরি সময়ে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার ফলে অনেক মানুষের জীবনও নিরাপদ করা সম্ভব হবে।”
মো. আনজার শাহ আরও বলেন, “মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের জনকল্যাণমূলক চিন্তা ও মানুষের পাশে থাকার যে স্বপ্ন ছিল, এই হাসপাতাল চালুর মধ্য দিয়ে তারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটছে। হাসপাতালটি তাঁর নামে নামকরণ হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে তাঁর স্মৃতিও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা
এলাকাবাসী আশা করছেন, হাসপাতালটিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ওষুধ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, জরুরি সেবা এবং নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, একটি হাসপাতাল চালু হওয়া কেবল স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ায় না; এর সঙ্গে এলাকার সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। রোগীদের যাতায়াত ব্যয় কমে, পরিবারের সময় সাশ্রয় হয় এবং জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে বরুড়ার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে। ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়িয়ে হাসপাতালটিকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে।
স্মৃতি ও সেবার অনন্য সংযোগ
সোনাইমুড়ীর এই হাসপাতালটি প্রয়াত সংসদ সদস্য, শিল্পপতি ও সমাজসেবক এ কে এম আবু তাহেরের নামে নামকরণ করা হয়েছে। মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার স্মারক হিসেবে হাসপাতালটি স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
আগামীকাল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, যথাযথ তদারকি, দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সুবিধা নিশ্চিত করে হাসপাতালটি দ্রুতই মানুষের আস্থা অর্জন করবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সোনাইমুড়ীর মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশা পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বরুড়া। সরকারি হাসপাতালের কার্যক্রম মানুষের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।