হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই এগিয়ে আসতে হবে:  তাজিরুল ইসলাম

মো. আনজার শাহ,

একসময় এসএসসির ফলাফলে যে বিদ্যালয়ের নাম উচ্চারিত হতো প্রথম সারিতে, সেই গৌরবদীপ্ত অধ্যায় ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব এখন শিক্ষার্থীদেরই। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ৬ নম্বর চিতড্ডা ইউনিয়নের মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তাজিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ৬ নম্বর চিতড্ডা ইউনিয়ন ছাত্রদল।

নিজেকে এই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা একটি পরিবর্তনের বাংলাদেশ দেখতে চাই। এই পরিবর্তন একা শিক্ষকদের পক্ষে সম্ভব নয়, সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে শিক্ষার্থীদের। কারণ দেশ যখনই বিপদে পড়েছে, নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রসমাজ।”

বিদ্যালয়ের অতীত গৌরবের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, তাঁদের সময়ে এসএসসির ফলাফলে স্কুলটি প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে থাকত, কখনো তৃতীয় স্থানের নিচে নামেনি। মাঝে পড়াশোনার মানে কিছুটা অবক্ষয় ঘটলেও এ বছর আবার ভালো ফল হয়েছে। এতে মন্ত্রী অত্যন্ত আনন্দিত বলে জানান তিনি। তাজিরুল ইসলাম বলেন, “ফল ভালো হলে মন্ত্রী বলেছেন, যেখানে উন্নয়ন দরকার, যেখানে ভবন দরকার, তা-ই করে দেবেন। তাই মূল কাজটা আপনাদের ও শিক্ষকদের হাতে। শিক্ষকেরা দেবেন দিকনির্দেশনা, আপনারা সেই অনুযায়ী পড়াশোনা করবেন।”

নারী শিক্ষার অগ্রগতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সচিবালয়ে তাঁদের মন্ত্রণালয়েই এখন ১৫ জনের বেশি নারী সচিব কর্মরত। এই অগ্রযাত্রার নেপথ্যে রয়েছে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চালু করা উপবৃত্তি কর্মসূচি। ছাত্রদের পিছিয়ে পড়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ছেলেদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই উদ্যোগ নেবেন। হাস্যরসের ছলে তিনি বলেন, ছেলেরা না পড়লে একসময় বোনেরা উপযুক্ত পাত্র খুঁজে পাবে না। এই বার্তা বন্ধুদের কাছে পৌঁছে দিতেও ছাত্রদের অনুরোধ জানান তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, এমন শিক্ষা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা সত্যিই কিছু শিখবে। সারা দেশ নকলমুক্ত হোক, এটাই প্রত্যাশা। যারা আগামী বছর পরীক্ষায় অংশ নেবে, সেই নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই পড়াশোনা শুরু করার পরামর্শ দেন তিনি। নিজের ছাত্রজীবনের কথা মনে করে বলেন, টেস্ট পরীক্ষার সময় তাঁরা প্রায় ঘুমাতেনই না, কারণ জানতেন পরীক্ষার হলে সাহায্য করার কেউ নেই। “তখন মনে হতো, স্যার একটু বলে দিন, কিন্তু সেই সুযোগ ছিল না। আপনাদের জন্যও সেই দিনটিই অপেক্ষা করছে,” বলেন তিনি।

বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, “আমরা ভবন এনে দিতে পারব, আধুনিক সুবিধা দিতে পারব, স্কুলভিত্তিক ট্যাবও দিতে পারব। কিন্তু পড়াশোনাটা আপনাদেরকেই করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে চারা রোপণ এবং অভিভাবকদের বলে বাড়ির আঙিনায় আরও গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, সবাই মিলেমিশে কাজ করলেই “সুন্দর একটি সোনালি দেশ” পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধন্যবাদ জানান তিনি। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে স্কুলের ফুটবলারদের হাতে ক্রীড়াসামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোকন চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং স্কুলের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *