হোল্ডিং ট্যাক্স তুলতে গিয়ে আমিরাবাদে গ্রাম পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ

কামরুল ইসলাম:


চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাইর উকিল পাড়া এলাকায় হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করতে গিয়ে গ্রাম পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্রাম পুলিশ মো. রাসেল ও হোল্ডিং ট্যাক্স উত্তোলনকারী নোমানকে মারধরের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের নির্দেশে গ্রাম পুলিশ মো. রাসেল ও হোল্ডিং ট্যাক্স উত্তোলনকারী নোমান হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের জন্য একই এলাকার জাহাঙ্গীরের বাড়িতে যান। এ সময় জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রীর সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী রাসেল ও নোমানের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী উল্টো গ্রাম পুলিশ রাসেলের বিরুদ্ধে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে গ্রাম পুলিশ রাসেল এ অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন।

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাস্টার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গ্রাম পুলিশ রাসেল ও নোমান হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের জন্য ওই বাড়িতে গেলে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী তাদের মারধর করেন। বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে। এখন উল্টো তারাই অভিযোগ দিচ্ছেন। ঘটনাস্থলে তারা আমাকে ও গালমন্দ করেছেন। আমার পরিষদের গ্রাম পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়।”

গ্রাম পুলিশ মো. রাসেল চৌকিদার বলেন, “চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি ও হোল্ডিং ট্যাক্স উত্তোলনকারী নোমান শুধু ট্যাক্স আদায়ের জন্য জাহাঙ্গীরের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী আমাকে মারধর করেন এবং চেয়ারম্যানকেও গালমন্দ করেন। নিরাপত্তার জন্য চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। তারা যে অভিযোগ করেছেন, তার সঙ্গে আমি জড়িত নই।”

অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, সেখানে শ্লীলতাহানির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *