২২ বছরেও হয়নি বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

মোঃ মশিউর রহমান:

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নে অবস্থিত ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অবকাঠামো সবই আছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে যাওয়ার নেই কোনো রাস্তা। জমির আল দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। আর বৃষ্টিতে যখন জমির আল তলিয়ে যায়, তখন তাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও সরকারীকরণ হয় ২০১৩ সালে। এখানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে ৮৩ জন। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছেন চারজন। জমিদাতা বিদ্যালয়ের জন্য জমি দিলেও পরবর্তী সময়ে এর আশপাশের জমির মালিকেরা তাঁদের জায়গা না ছাড়ায় বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা হয়নি।

রোববার ২৬ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের চারদিকেই আবাদি জমি। সেখানে ধান চাষাবাদ করা হয়। বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ গজ পশ্চিমে রাস্তা আছে। সেই রাস্তা থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার কোনো পথ নেই।

দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয়ের টিফিনের সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কাদার মধ্য দিয়ে পায়ে থাকা স্যান্ডেল হাতে নিয়ে কাদামাটি মাড়িয়ে জমির আল ধরে সারিবদ্ধভাবে বাড়ি ফিরছে।

এ সময় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজেদুল ইসলাম বলে, এভাবে কাদামাটি দিয়ে জমির মাঝ দিয়ে যাতায়াত করতে খুব অসুবিধা হয়। খেতের মধ্যে পড়ে যেতেও হয়। তখন খেতের মালিক রাগ করেন।

একই শ্রেণির নাসিমা আক্তার বলে, ‘শীতে আইল ধরিয়া গেইলেও বর্ষায় স্কুল যাওয়া যায় না। জমিতে পানি ওঠে।’

বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, একটি সরকারি বিদ্যালয়ে যেতে রাস্তা থাকবে না, তা কেমন করে হয়। এ বিষয়ে সরকারিভাবেই উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষিকা পারভিন বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসহ সবাইকে আসতে খুব ভোগান্তি পোহাতে হয়। যেকোনো মালামাল নিয়ে আসা কষ্টকর হয়ে পড়ে। রাস্তা না থাকায় এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে না; বরং দিন দিন কমে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসায় কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক মোঃ হায়দার আলী বলেন, স্কুলে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি মাড়িয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। প্রতিটি সকাল যেন এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন এক সংগ্রামের নাম। একদিকে পিঠে ভারী বইয়ের ব্যাগ, চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে স্কুলে ছুটে চলা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলে আসার রাস্তা খুবই প্রয়োজন। তিনি স্কুলের রাস্তাটি করে দেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন, রাস্তা করার জন্য প্রধান শিক্ষকের আবেদন পেলে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *