মোঃআনজার শাহ
সময়ের পাতায় পঁচিশটি বছর ঝরে গেছে নীরবে। বদলেছে দেশ, বদলেছে রাজনীতির মানচিত্র। কিন্তু বদলায়নি বরুড়ার মানুষের ভালোবাসা আর বদলায়নি সেই চেনা মুখটির প্রতি এই জনপদের গভীর আস্থা ও শ্রদ্ধা।
২০০১ সালে কুমিল্লার বরুড়ার ধুলোমাখা পথে যে তরুণ নেতা জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে স্বপ্নের কথা বলেছিলেন, আগামী ১৬ মে সেই একই মাটিতে পা রাখবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চাঁদপুরে ঐতিহাসিক খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শনে যাওয়ার পথে বরুড়ার পয়েলগাছা দক্ষিণ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এক বিশাল পথসভা। আর এই একটি সংবাদেই যেন ঘুম ভেঙেছে গোটা বরুড়ার উত্তেজনা, আবেগ আর প্রত্যাশায় মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রতিটি পাড়া-মহল্লা।
ভাইরাল একটি ছবি, জাগ্রত একটি যুগের স্মৃতি,ঠিক এই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে একটি সাদামাটা, কিন্তু অসাধারণ তাৎপর্যময় পুরনো ছবি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ২০০১ সালের সেই পথসভায় পাশাপাশি বসে আছেন তারেক রহমান এবং বরুড়ার গর্ব, মরহুম সংসদ সদস্য এ কে এম আবু তাহের। পাশে বসে নিবিড় আলাপে মগ্ন দুজন, সেই মুহূর্তে কেউ কি জানত, এই ছবি একদিন ইতিহাসের দলিল হয়ে উঠবে?
ছবিটি দেখে বরুড়ার হাজারো মানুষের চোখ ভিজে যাচ্ছে। কেউ বলছেন, “আহা,মরহুম আবু তাহের সাহেব আজ বেঁচে থাকলে কত খুশি হতেন!” কেউ বলছেন, “এই ছবিটাই বলে দেয় সত্যিকারের রাজনীতি কেমন হয়।”
পিতার স্মৃতিতে আবেগাপ্লুত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন),মরহুম আবু তাহেরের সুযোগ্য পুত্র, বর্তমান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন) ছবিটি দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন,
এই ছবিটা দেখলে বুকের ভেতরে কষ্ট আর গর্ব একসঙ্গে মিলেমিশে যায়। আব্বা সবসময় বলতেন, ক্ষমতা নয়, মানুষের ভালোবাসাই জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। আজ যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই একই বরুড়ার মাটিতে ফিরছেন, যেখানে একদিন আব্বা তাঁর পাশে ছিলেন। তখন মনে হয়, আব্বা হয়তো কোথাও থেকে দেখছেন এবং মুচকি হাসছেন। তিনি আজ দেহে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ, তাঁর ভালোবাসা, তাঁর সেবার স্মৃতি এই বরুড়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে বেঁচে আছে। আমি শুধু চাই তাঁর সেই পথ ধরেই হাঁটতে, তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো পূরণ করতে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “আব্বা কখনো কাউকে খালি হাতে ফেরাননি। ভোরের আলো ফোটার আগেই মানুষ তাঁর দরজায় আসত, তিনি সবার কথা শুনতেন, সবার পাশে দাঁড়াতেন। সেই মানুষের সন্তান হিসেবে বরুড়ার জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা অসীম। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আমাদের এলাকার উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এটাই আমার বিশ্বাস।”
“সাবেক সংসদ সদস্য আবু তাহের কাকা আজ থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন” কায়সার আলম সেলিম,বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম মরহুম আবু তাহেরকে স্মরণ করে বলেন,
“সাবেক সংসদ সদস্য আবু তাহের কাকা ছিলেন এই মাটির মানুষ, একেবারে মাটির কাছের মানুষ। তাঁর রাজনীতি ছিল গরিবের ঘরে ঘরে। কোনো সুবিধাভোগী, কোনো ক্ষমতালোভী মানুষ ছিলেন না তিনি। ভোরবেলা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের দুঃখ-কষ্ট শুনতেন, নিজে উদ্যোগ নিয়ে সমাধান করতেন। বরুড়ার ইতিহাসে তাঁর মতো নিঃস্বার্থ নেতা বিরল।”
তিনি আরও বলেন, “২০০১ সালের সেই পথসভার কথা আজও মনে আছে। তারেক রহমান সাহেবের পাশে সাবেক সংসদ সদস্য আবু তাহের কাকাকে দেখে মনে হয়েছিল, এঁরা দুজন মিলে বরুড়ার মানুষের ভাগ্য বদলে দেবেন। আবু তাহের কাকা চলে গেছেন,(আল্লাহ উনাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুক, আমিন) এটা বরুড়ার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। কিন্তু আজ যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবার এই মাটিতে আসছেন, তখন বারবার মনে হচ্ছে, আবু তাহের কাকা আজ বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন, সবার আগে ছুটে আসতেন। তাঁর স্মৃতি আমাদের অনুপ্রেরণা, তাঁর আদর্শ আমাদের পথ দেখাবে।”
অসমাপ্ত স্বপ্নের উত্তরাধিকার,মরহুম আবু তাহেরের কনিষ্ঠ পুত্র ইয়াহিয়া শারমিনও বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বরুড়ার হাজারো বেকার তরুণের কর্মসংস্থানে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে আজও এলাকার তরুণ সমাজ শোকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বাবা-ছেলে দুজনেই চলে গেছেন কিন্তু রেখে গেছেন ভালোবাসার এক অমর উত্তরাধিকার, যা বরুড়ার মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।
নতুন ভোরের প্রতীক্ষায় বরুড়া,
আগামী ১৬ মে এই তারিখটি এখন বরুড়াবাসীর কাছে শুধু একটি তারিখ নয়, এ যেন এক নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে এলাকার সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, তরুণ সকলের মনে জেগেছে নতুন আশার আলো।
বরুড়াবাসীর একটাই প্রত্যাশা ২৫ বছর আগে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল এই মাটিতে, সেই স্বপ্নের পূর্ণ বাস্তবায়ন হোক আজ। মরহুম আবু তাহেরের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন হোক, বরুড়া এগিয়ে যাক উন্নয়নের নতুন দিগন্তে।