সুলতান মাহমুদ:
বাংলাদেশ প্রশাসনে ভুয়া ক্যাডার এবং কোটা জালিয়াতির অভিযোগে নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছেন ২৯তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মমতাজ বেগম। Asia Post-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি ৯৫ জন ভুয়া বিসিএস কর্মকর্তার তালিকায় নাম রয়েছেন। প্রশাসন ক্যাডারে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০৬০০১৪।
মমতাজ বেগম বর্তমানে DDLG হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলায় কর্মরত থাকলেও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অফিস কিশোরগঞ্জে থাকলেও মূলত ঢাকায় বসে সরকারি বেতন গ্রহণ করছেন। ৫ আগস্টের আগে তিনি ঢাকা ডিসি অফিসের এডিসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি ভূমি আপিল বোর্ডে বদলি হন, কিন্তু কার্যত ঢাকায় বসে প্রশাসনিক এবং ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে পরে মেহেরপুরের DDLG পদে বদলি হন। তবে সেখানে যোগদান না করেই দীর্ঘ সময় কিশোরগঞ্জে অর্ডার পান।
মমতাজ বেগমের পিতা-মাতা হলেন শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের আব্দুল মোতালেব সরদার ও আলেয়া বেগম।
২৯তম বিসিএসের নিয়োগ ও বিতর্ক:
২৯তম বিসিএসের মূল প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল ২০১১ সালের ১০ জুলাই। পরবর্তীতে ২০১২ সালে এসআরও-৫৫ এর মাধ্যমে মমতাজ বেগম প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান। অভিযোগ আছে, তিনি বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দেননি। এই ২৯তম ব্যাচের সাথে আরও ১৩ জন কর্মকর্তা কোটা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশাসনে প্রবেশ করেন। বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদ ফেরদৌস হাসান হাইকোর্টে রিট করলে, ২০১৩ সালে হাইকোর্ট এসআরও-৫৫ বাতিল করে রায় প্রদান করে।
কিন্তু ২০২৩ সালে হাইকোর্টের ফুল বেঞ্চ বসিয়ে, ২০১৩ সালের পূর্বের আদেশ বাতিল করে মমতাজ বেগমকে উপসচিব পদোন্নতি প্রদান করা হয়।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক বলয়:
প্রশাসনে যোগদানের পর থেকেই মমতাজ বেগমের ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ শোনা যায়। তিনি প্রশাসনের চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। ছাত্রলীগের মাধ্যমে প্রশাসনে বলয় তৈরি করে তিনি বদলি, পোস্টিং ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতেন।
অভিযোগ আছে, এই বলয় ছাড়া কোনো কর্মকর্তার প্রমোশন সম্ভব হতো না। বহু নিরপরাধ কর্মকর্তাকে বিএনপি-জামাত বানিয়ে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে। আবার অর্থের বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট রেজিমের স্বীকৃত বিএনপি-জামাতের কর্মকর্তাদের প্রমোশন করানোর ঘটনাও শোনা যায়।
এই মামলাটি পুনরায় আলোচনার মুখে আনে প্রশাসন ও রাজনৈতিক বলয় ব্যবস্থার অপব্যবহার, ভুয়া বিসিএস ক্যাডারদের ঘরে বসে বেতন গ্রহণ, এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিয়মের বিস্তার।