ক্রীড়া ডেস্ক:
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়কত্ব আর করতে চান না নিগার সুলতানা জ্যোতি। তবে বোর্ডের সঙ্গে কোনো দূরত্ব বা অভিমান থেকে নয়, ব্যাটার হিসেবে নিজের খেলায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এশিয়ান গেমসের সোনার পদকের লড়াই থেকে বাংলাদেশের বিদায়ের দিনই নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়টি পরিষ্কার করেন জ্যোতি। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাপানের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ১১৪ রানে হারের পর তিনি জানান, এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে আর থাকতে চান না—এ কথা তিনি আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) জানিয়েছেন।
সম্প্রতি গুঞ্জন উঠেছিল, কঠিন সময়ে বোর্ডের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন না পাওয়ায় কষ্ট পেয়ে অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্যোতি। তবে এমন ধারণা সরাসরি নাকচ করেছেন তিনি।
জ্যোতি বলেন, তিনি কষ্ট পেয়েছেন বলে অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন—এমন ধারণা পুরোপুরি ভুল। ব্যাটার ও একজন খেলোয়াড় হিসেবে দেশের এবং দলের জন্য তার আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। আর সে কারণেই ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। আগে ব্যাট করে শেফালি ভার্মার অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসে পড়াকে কিছুটা স্বাভাবিক বলেই মনে করেন জ্যোতি। তার মতে, বড় রান তাড়া করতে গেলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে ভারতের রান আরও কমিয়ে রাখতে পারলে ম্যাচের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত বলেও মনে করেন তিনি।
ব্যাটারদের ব্যর্থতার দায়ও নিজেরা নিয়েছেন বলে জানান জ্যোতি। তার ভাষায়, একটি দল এত কম রানে অলআউট হলে ব্যাটার হিসেবে অবশ্যই দায়িত্ব নেওয়ার জায়গা থাকে। টপ অর্ডারের কোনো একজন ব্যাটার শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারলে দল আরও কিছু রান যোগ করতে পারত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে শুধু ম্যাচের পারফরম্যান্স নয়, জাপানে এশিয়ান গেমসের আগে প্রস্তুতির ঘাটতিকেও বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন জ্যোতি। বৃষ্টির কারণে টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ দল অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে মাত্র দুই দিন।
চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। এরপর চীনের বিপক্ষেই একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়নি।
জ্যোতি বলেন, জাপানে তাদের প্রায় কোনো অনুশীলন সুবিধাই ছিল না। চীনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি খেলতে পারলে পুরো দলের জন্যই ভালো হতো। কিন্তু সেই সুযোগও তারা পাননি। সব মিলিয়ে পুরো দলই খুব খারাপ ক্রিকেট খেলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোনার পদকের আশা শেষ হয়ে গেলেও এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের আরও একটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে আশাবাদী জ্যোতি। তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড ভালো এবং সেখানে ইতিবাচক একটা অনুভূতি রয়েছে।
ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচটিই টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে নিগার সুলতানা জ্যোতির শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে।