মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া ফতুল্লার গৃহবধূ ও আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা পারভীন মিনু (৪৭) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে র্যাব-১১। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে পৃথক দুটি অভিযানে ঢাকার ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম খান (৫২) এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বাসিন্দা মো. আনিছুর রহমান (৪০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মিনু ফতুল্লার তুষারধারা আবাসিক এলাকায় ছোট ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে একটি ফোনকল পেয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মিনুর মেঝো ছেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার একটি এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয়ের একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে স্বজনরা সেখানে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
ভাঙ্গা-ঢাকা মহাসড়কের ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের সার্ভিস লেনের উত্তর পাশে আড়িয়াল খাঁ নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে প্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় নিশ্চিত করে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে ডেমরার মাহমুদনগর এলাকা থেকে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকা থেকে আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
উল্লেখ্য, প্রথমে অজ্ঞাত পরিচয়ে উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় শনাক্তের পর জানা যায়, নিহত হাসিনা পারভীন মিনু স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন নেত্রী ছিলেন।