আকবরশাহে হত্যাচেষ্টা মামলা, আতঙ্কে এলাকাবাসী, গ্রেপ্তার একজন

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানা এলাকায় গতিরোধ, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনায় ইতোমধ্যে মনির নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি মোঃ সৈয়দ মাহাবুব-ই-খোদা জিতুসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে আকবরশাহ থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ৯ এবং বাৎসরিক নম্বর ১৪৪। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৪১/৩০৭/৪২৭/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সংঘবদ্ধভাবে গতিরোধ, হত্যাচেষ্টা, ক্ষতিসাধন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ মে সকাল আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটের দিকে আকবরশাহ থানাধীন সোনামিয়া রেলগেটসংলগ্ন মহিনের চা দোকানের সামনে শাপলা আবাসিক এলাকার সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে বাদীর পথরোধ করে হামলার চেষ্টা চালায় এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ সময় ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং হামলার ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

মামলার বাদী মোঃ সোহেল অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে এসে তার চলাচলের পথ আটকে দেয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে মোঃ সৈয়দ মাহাবুব-ই-খোদা জিতুকে। এছাড়া মনির, তাহের এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই এলাকায় অভিযান শুরু করা হয় এবং রাতে মনির নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, “রাতে অভিযান পরিচালনা করে মামলার আসামি মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, স্থানীয় তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামি জিতুর বিরুদ্ধে এলাকায় এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে তার নাম বহুবার আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এলাকায় সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কের মধ্যে আছে। দিনের বেলাতেও মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।”

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী মহলকে ব্যবহার করে এলাকায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষ যেন মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে মামলাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, এলাকায় যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কেউ যেন আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সেই বার্তাও দিতে চায় প্রশাসন।

সব মিলিয়ে আকবরশাহ এলাকার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং খুব দ্রুত বাকি আসামিদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *