মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
দেশের জ্বালানি সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলায় টেকসই বায়োগ্যাস প্রযুক্তি প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বায়োগ্যাস প্লান্ট ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
আজ কক্সবাজারের লিংক রোড সংলগ্ন এলাকায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক বায়োগ্যাস প্লান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। বর্তমানে স্বল্প পরিসরে বাস্তবায়িত এই কার্যক্রমকে আগামীতে দেশব্যাপী ব্যাপক রূপ দেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করতে দুইজন খামারিকে দেড় লাখ টাকা করে ঋণ প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বায়োগ্যাসের সুবিধা ও প্রত্যক্ষ উপকারিতা সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করতে দ্রুত একটি বুকলেট তৈরি করা হবে। এটি মাঠপর্যায়ে বিতরণ করে খামারিদের অনুপ্রাণিত করা হবে। যুবসমাজের শক্তির ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তরুণ সমাজই দেশের প্রকৃত চালিকাশক্তি এবং তারাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের সার্বিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।”
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, যুগের চাহিদা বিবেচনায় যুব উন্নয়ন কেন্দ্রের ট্রেডগুলোকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এখন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফ্রিল্যান্সিং, কেয়ারগিভিং ও মোবাইল সার্ভিসিংয়ের মতো যুগোপযোগী খাতে প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণসহায়তার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হচ্ছে।
নিজের গৃহস্থালি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কীভাবে বাণিজ্যিকভাবে বায়োগ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো যায়, সে পরিকল্পনাও সরকার হাতে নিয়েছে বলে জানান তিনি। যুব উন্নয়নের প্রতিটি সেবা দেশের একেবারে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।