কামরুল ইসলাম:
আনোয়ারায় নম্বরবিহীন অবৈধ সিএনজি থেকে আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী স্টেশনে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মোজাহিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রমতে জানা গেছে, কক্সবাজারের পেকুয়া, চকরিয়া ও মহেশখালী উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজারেরও অধিক নম্বরবিহীন অবৈধ সিএনজি এবিসি আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচল করছে। এসব সিএনজি চলাচলের জন্য আনোয়ারা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মোজাহিদ ট্রাফিক পুলিশের নিয়োগকৃত দালালদের মাধ্যমে গাড়িপ্রতি মাসিক ১,৫০০ টাকা করে চাঁদা নেন।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর কিছুদিন ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ থাকলেও বর্তমানে আবারও ব্যাপকভাবে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে বলে অটোরিকশা, সিএনজি মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে।
নম্বরবিহীন সিএনজিগুলো কর্ণফুলীর মইজ্যারটেক গ্যাস পাম্পে প্রতিদিন নিয়মিত কক্সবাজারের পেকুয়া থেকে আনোয়ারা হয়ে চট্টগ্রাম সিটিতে সহজে যাতায়াত করে। সিএনজি গ্যাস পাম্পে গ্যাস নিতে আসার সুযোগে মাসোহারা নিয়ে গাড়িগুলো চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছেন আনোয়ারা ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মোজাহিদ। মাসোহারা বকেয়া থাকলে সিএনজি গাড়িগুলো আটক করে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মোজাহিদ মামলার ভয় দেখান বলেও সিএনজি চালকদের অভিযোগ রয়েছে।
চাতরী চৌমুহনী স্টেশনে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মোজাহিদ এবং দায়িত্বরত সদস্যদের বিরুদ্ধে টোকেন বাণিজ্য ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এই চাঁদাবাজির মূল টার্গেট হচ্ছে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের পেকুয়া থেকে আনোয়ারা হয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা হাজার হাজার নম্বরবিহীন ও অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিকশা।
পরিবহন শ্রমিক নামধারী কিছু দালালের মাধ্যমে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মোজাহিদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে মুখ খোলেননি। এছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও জানা যায়, তিনি দোহাজারীতে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও গণহারে চাঁদাবাজি করতেন। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব জসিম উদ্দিন এমপি দোহাজারী ও চন্দনাইশে টোকেন বাণিজ্য বন্ধ করে দিলে সার্জেন্ট মোজাহিদ বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করে দোহাজারী থেকে আনোয়ারা এলাকায় বদলি হয়ে আসেন।
বর্তমানে আনোয়ারা উপজেলার সচেতন মহল এই দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর সার্জেন্টের বিরুদ্ধে মাননীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার কামাল এমপি এবং পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।