কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে এক ব্যক্তি জামায়াতের রাজনীতি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এমনকি তার বাড়ি থেকে জামায়াত-শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তাদের অভিযোগ, বর্তমানে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে আসন্ন আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে একই সময়ে তিনি জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সক্রিয় কর্মী ও ডোনার হিসেবে ভূমিকা রাখছেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন তৃণমূল নেতাকর্মী।
এ ঘটনায় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে হঠাৎ করে অন্য দল থেকে আসা ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ বা মনোনয়ন দেওয়া হলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলেন, ‘যারা অতীতে অন্য রাজনৈতিক দলের হয়ে সক্রিয় ছিলেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। এ ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মো. নাজমুল মোস্তফা আমিন, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ছলিম উদ্দিন চৌধুরী (খোকন), উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সাতজাতুর রহমান চৌধুরী সাতজাত, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন চৌধুরী সোহেল এবং লোহাগাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল কবির ফজলুসহ দলের সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।