অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে ভারত। এর ফলে দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান হলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের বরাতে জানা গেছে, আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগের আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র বা ‘অ্যাগ্রেমোঁ’র একটি অনুলিপি ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট জানিয়েছিল, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে সিয়ামের নিয়োগে ভারতীয় সরকারের আনুষ্ঠানিক সম্মতি পাওয়া যায়নি। এক মাসের বেশি সময় ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে ভারতের সম্মতি পাওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার সেই জটিলতা কেটে গেছে। কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী, কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট স্বাগতিক দেশের সম্মতি নেওয়া হয়।
১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়া পেশাদার কূটনীতিক আসাদ আলম সিয়াম এর আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনে বাংলাদেশের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাইকমিশনার এবং ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে জুনিয়র কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সিয়াম।
দেশে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল প্রধান, ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্রসচিবের দপ্তরের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।
২০২৫ সালের জুনে পররাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব নেন আসাদ আলম সিয়াম। নতুন দায়িত্বে তিনি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নয়াদিল্লিতে বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন।
এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে জেনেভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই সিয়ামের নিয়োগে ভারতের সম্মতির খবর এলো। এর ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের পথও পরিষ্কার হলো।